Logo
×

Follow Us

এশিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ড ছাড়াল বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৪৩

দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ড ছাড়াল বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রবেশ করেছে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। ২০২১ সালে যেখানে সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০ হাজার, সেখানে চার বছরের মধ্যে তা ছয় গুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।

কোরিয়া ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মোট বিদেশি আগমন ছিল প্রায় ১৮.৯৪ মিলিয়ন। এর মধ্যে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্য এসেছে ৫ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ, যা মোট আগমনের ২.৭ শতাংশ।

পর্যটন এখনো প্রধান চালিকা শক্তি। ২০২৫ সালে পর্যটনের জন্য এসেছে ১৫.৮২ মিলিয়ন মানুষ, যা মোট আগমনের ৮৩ শতাংশের বেশি। ব্যবসা ও বাণিজ্যের জন্য এসেছে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার, আর সরকারি কাজে এসেছে ৭৩ হাজারের বেশি।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। ২০২১ সালে মাত্র ৮০ হাজার। এরপর ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫২ হাজারে। ২০২৩ সালে সংখ্যা হয় ৩ লাখ ১৩ হাজার, আর ২০২৪ সালে পৌঁছায় ৪ লাখ ৩৫ হাজারে। অবশেষে ২০২৫ সালে তা অর্ধমিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়।

কোরিয়ান পপ সংস্কৃতি এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি। কে-পপ ও কোরিয়ান ড্রামার বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা কোরিয়ান ভাষা শেখা ও ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ বাড়িয়েছে। কোরিয়ার সংসদীয় কমিটিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য জিন সান-মি বলেছেন, “কে-কনটেন্ট শুধু পর্যটন নয়, দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের চাহিদা বাড়াচ্ছে।” তিনি বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্থানীয় সমাজে মানিয়ে নিতে নীতিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।

তথ্য বলছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি আগমনের বড় অংশ তরুণ প্রজন্ম। ২০ ও ৩০-এর দশকের মানুষ মিলিয়ে মোট আগমনের প্রায় ৪৬ শতাংশ। এর মধ্যে ২০-এর দশকের মানুষ সবচেয়ে বেশি, ৪.৭২ মিলিয়ন। এরপর ৩০-এর দশকের মানুষ ৪.০৫ মিলিয়ন।

৪০-এর দশকের মানুষ মোট আগমনের ১৪.৫ শতাংশ। ৫০-এর দশকে ১১.৬ শতাংশ। ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ১২ শতাংশ। আর ১৯ বছরের নিচে রয়েছে ৯ শতাংশের বেশি।

দক্ষিণ কোরিয়া এখন শুধু পর্যটনের দেশ নয়, বরং পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্যও একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। কে-পপের সুর আর কোরিয়ান ড্রামার গল্প তরুণদের টেনে নিচ্ছে সিউলের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।

Logo