সিঙ্গাপুর ভিসা: বাংলাদেশিদের জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩
সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আধুনিক শহর-রাষ্ট্র। ব্যবসা, পর্যটন ও চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য সিঙ্গাপুরে প্রবেশের আগে ভিসা বাধ্যতামূলক। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (ICA) জানিয়েছে, বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের অবশ্যই আগাম ভিসা নিতে হবে।
সিঙ্গাপুরে প্রবেশের জন্য কয়েক ধরনের ভিসা রয়েছে। ট্যুরিস্ট ভিসা সাধারণত ৩০ দিনের জন্য দেওয়া হয়। এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি বা মাল্টিপল এন্ট্রি হতে পারে। ব্যবসায়িক ভিসা সাধারণত মাল্টিপল এন্ট্রি হয় এবং সিঙ্গাপুরের কোম্পানির আমন্ত্রণপত্র প্রয়োজন। সোশ্যাল ভিজিট পাস পাওয়া যায় যদি আত্মীয়রা সিঙ্গাপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসা নিতে হয়, যেখানে হাসপাতালের আমন্ত্রণপত্র ও চিকিৎসা পরিকল্পনা জমা দিতে হয়।
ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার মেয়াদ অন্তত ছয় মাস। আবেদন ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ দিতে হবে যাতে সিঙ্গাপুরে থাকা ও খরচ বহন করা যায়। ফেরার নিশ্চয়তা দেখাতে হবে চাকরি, ব্যবসা বা পরিবারের মাধ্যমে।
সব ভিসার জন্য পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠা, আবেদন ফর্ম, সাম্প্রতিক ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি ও বেতন স্লিপ, ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স, ফ্লাইট ও হোটেল বুকিং জমা দিতে হয়। ব্যবসায়িক বা সোশ্যাল ভিজিটের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণপত্র ও স্পন্সরের ডকুমেন্টও প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে আবেদন করার দুটি উপায় রয়েছে। প্রথমত, সিঙ্গাপুরে থাকা স্পন্সরের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। স্পন্সর SingPass দিয়ে ICA পোর্টালে লগইন করে আবেদন জমা দেন। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ কার্যদিবসে ভিসা অনুমোদন হয়। দ্বিতীয়ত, ঢাকার স্বীকৃত ভিসা এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। এজেন্ট আবেদন জমা দিয়ে ইমেইলে ভিসা পাঠান। এতে সময় লাগে পাঁচ থেকে সাত কার্যদিবস।
সরকারি ফি ৩০ সিঙ্গাপুর ডলার। এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করলে অতিরিক্ত ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। ফি ফেরতযোগ্য নয়, ভিসা প্রত্যাখ্যান হলেও টাকা ফেরত পাওয়া যায় না।
অপর্যাপ্ত ব্যাংক ব্যালান্স, পাসপোর্টের মেয়াদ কম, ফ্লাইট বা হোটেল বুকিং না থাকা, জাল ডকুমেন্ট জমা দেওয়া, পূর্ববর্তী ভিসায় ওভারস্টে বা অবৈধভাবে কাজ করার সন্দেহ থাকলে ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে পারে।
আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। সব ডকুমেন্ট সঠিকভাবে জমা দিতে হবে। ফেরার ইচ্ছা প্রমাণ করতে চাকরি, ব্যবসা বা পরিবারের তথ্য দেখাতে হবে। ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স থাকলে ভালো ইমপ্রেশন তৈরি হয়। নির্ভরযোগ্য এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করাই নিরাপদ।
logo-1-1740906910.png)