Logo
×

Follow Us

এশিয়া

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক কমানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক কমানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

মালয়েশিয়ার শিল্প খাতে দ্রুত অটোমেশন বাড়ানো এবং বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আবদুল গনি। আগামী মাসে জাতীয় সংসদে ২০২৭ সালের বাজেট উপস্থাপনের আগে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এর ফলে অটোমেশনে বিনিয়োগ হয়নি এবং ব্যয় কাঠামো বিদেশি শ্রমিকের মজুরির সঙ্গে বাঁধা পড়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব উৎপাদন ও কার্যক্রমে অটোমেশন নিয়ে আসা হোক। ভবিষ্যতে বিদেশি শ্রমিক আগের মতো সহজলভ্য থাকবে না।”

জোহারি জানান, বড় বা ছোট সব ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ধীরে ধীরে অটোমেশন গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ‘ডার্টি, ডেঞ্জারাস অ্যান্ড ডিফিকাল্ট’ (৩ডি) কাজগুলোতে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। তিনি বলেন, এ পরিবর্তন হঠাৎ নয়, ধাপে ধাপে ঘটবে। এতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সমান হবে, কারণ যারা বিদেশি শ্রমিক বেশি নিয়োগ করে তারা বর্তমানে সুবিধা পাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন সহজে অনুমোদন করা উচিত নয়। নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই তাদের ৩ডি কাজের তালিকা দিতে হবে এবং অন্যান্য কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও বেতন স্পষ্ট করতে হবে।

জোহারি স্থানীয় শ্রমিকদের কাজ করতে অনীহা দেখানোর অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন, “অনেকে বলেন স্থানীয়রা কাজ করতে চান না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আপনারা কী বেতন দিচ্ছেন? কতটা আর্থিকভাবে লাভজনক সেই কাজ?” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অনেক মালয়েশিয়ান প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সিঙ্গাপুরে যান, কারণ সেখানে আর্থিক সুবিধা বেশি।

২০২৭ সালের বাজেট আগামী ৯ অক্টোবর সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বাজেটে শিল্প খাতে অটোমেশন বাড়ানো, বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক কর্মসংস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার শিল্প খাত দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। তবে সরকারের লক্ষ্য হলো অটোমেশন বাড়িয়ে ব্যয় কাঠামো পরিবর্তন করা এবং স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান তৈরি করা। ২০২৭ সালের বাজেট এ দিকেই নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Logo