মালয়েশিয়ায় বসবাস ও কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। ২৯ আগস্ট হাইকমিশন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রবাসীদের তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
হাইকমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর্মরত দেশের আইন, বিধি-বিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা এবং স্থানীয় সাইবার আইন মেনে চলা প্রতিটি প্রবাসীর দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হবে ইতিবাচক যোগাযোগের জন্য; পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে। চাকরি বা নিয়োগকর্তা-সংক্রান্ত কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
এছাড়া অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতারণা ও ফিশিং থেকে বাঁচতে তথ্য যাচাই করে শেয়ার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা এবং উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাইকমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠনসংশ্লিষ্ট কোনো পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক বা মন্তব্য করা যাবে না। গুজব, ভুয়া তথ্য বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার থেকেও বিরত থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক সংঘাত যেমন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বা ইরান-ইসরায়েল ইস্যুতে উসকানিমূলক পোস্ট শেয়ার করা স্থানীয় আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বা অনলাইন প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনে অনুদান দেওয়া যাবে না। কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। নিজের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে এমন পোস্ট বা মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন বা সন্দেহজনক বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত না হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কার্যক্রমকে সমর্থন করে পোস্ট বা মন্তব্য করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
হাইকমিশন উল্লেখ করেছে, মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় সমস্যা হলো প্রতারণামূলক ও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল নিয়োগপ্রক্রিয়া। অনেক শ্রমিক বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কাজ করছেন, যা নিয়মিত অভিযানে ধরা পড়ছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আটক ও শাস্তির ঘটনা বেড়েই চলেছে।
logo-1-1740906910.png)