কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর কঠোর নিরাপত্তা অভিযান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অভিযান শুরু করেছে রাজ্য সরকার। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগে ইতোমধ্যেই কলকাতায় ১৩টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরো ১৬টি হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার ৫০টি এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ২৯টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বন্ধ বা নোটিশ পাওয়া হোটেলগুলোর বেশির ভাগই মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও এসএন ব্যানার্জি রোড এলাকায় অবস্থিত। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজ্য দমকল বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “মধ্য কলকাতার অন্তত ১৬টি হোটেলকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কারণে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতার ৫০টির বেশি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
রাজ্যের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মকর্তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হোটেলগুলোতে পরিদর্শন চলছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “১০০টি হোটেল বন্ধ করার পরও আমরা থামব না। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল চলতে দেওয়া হবে না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ছোট কক্ষ, অনুমোদন ছাড়াই ভবনের নকশা পরিবর্তন; এসব অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এসব হোটেল ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার লাইসেন্স পেল।
দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু হোটেল কোনো ধরনের ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল। আবার কিছু হোটেলের লাইসেন্স চার থেকে পাঁচ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। অনেক হোটেলে বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ ছিল না, জরুরি গেট বন্ধ রাখা হতো, অনুমোদনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হতো, কক্ষে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না এবং অনুমোদন ছাড়াই ভবনের নকশা পরিবর্তন করা হয়েছিল।
গত বুধবার ভোরে মধ্য কলকাতার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯ জন নিহত হওয়ার তিন দিন পর এই অভিযান শুরু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের ছয়জনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে এবং একজনের মরদেহ কলকাতাতেই দাহ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় হোটেলটির লিজধারী ও মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুনে দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর তারাপীঠের ১৫টি হোটেল ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
logo-1-1740906910.png)