নীল সমুদ্র আর সাদা বালির দ্বীপ নিয়ে মালদ্বীপ বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দেশটিতে ভ্রমণ তুলনামূলক সহজ, কারণ পৌঁছেই পাওয়া যায় অন-অ্যারাইভাল ভিসা। তবে ভ্রমণের আগে কিছু নিয়ম ও শর্ত মানা জরুরি।
বাংলাদেশি নাগরিকরা মালদ্বীপে পৌঁছেই ৩০ দিনের অন-অ্যারাইভাল ভিসা পান। এর জন্য কোনো দূতাবাসে আবেদন করতে হয় না। শর্ত হলো পাসপোর্টে অন্তত ছয় মাস মেয়াদ থাকতে হবে, প্রতিদিনের জন্য ন্যূনতম ৩০ ডলার খরচ দেখাতে হবে এবং হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের প্রমাণপত্র থাকতে হবে। চাইলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো যায়।
মালদ্বীপে প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলো ভেলানা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, যা রাজধানী মালে শহরের কাছেই অবস্থিত। পর্যটকদের জন্য সি-প্লেন, স্পিডবোট ও ফেরি সার্ভিস রয়েছে। রিসোর্টে যেতে হলে সাধারণত স্পিডবোট বা সি-প্লেন ব্যবহার করতে হয়।
মালদ্বীপে বাজেট হোটেল থেকে শুরু করে বিলাসবহুল রিসোর্ট; সবই পাওয়া যায়। স্থানীয় দ্বীপে থাকা তুলনামূলক সাশ্রয়ী, তবে রিসোর্টে খরচ অনেক বেশি। বুকিং করার সময় নিশ্চিত হতে হবে যে হোটেল বা রিসোর্টের কনফার্মেশন লেটার প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখা হয়েছে।
প্রতিদিনের ন্যূনতম খরচ ধরা হয় ৩০ ডলার, তবে বাস্তবে রিসোর্টে থাকতে গেলে খরচ অনেক বেশি হয়। বাজেট ভ্রমণকারীরা স্থানীয় দ্বীপে থেকে খরচ কমাতে পারেন। খাবারের দামও তুলনামূলক বেশি, একটি সাধারণ খাবারের খরচ প্রায় ১০-১৫ ডলার।
মালদ্বীপে অ্যালকোহল কেবল রিসোর্টে পাওয়া যায়, স্থানীয় দ্বীপে নয়। সি-প্লেন সার্ভিসে খরচ বেশি হলেও সময় বাঁচে। স্থানীয় দ্বীপে থাকার খরচ কম, তবে রিসোর্টে বিলাসিতা বেশি। ভ্রমণের আগে ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স নেওয়া ভালো। স্নরকেলিং, ডাইভিং, ফিশিংসহ নানা সমুদ্রতীরবর্তী কার্যক্রম পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মালদ্বীপ ভ্রমণ সহজ ও আকর্ষণীয়। অন-অ্যারাইভাল ভিসা, সুন্দর সমুদ্রতীর, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং স্থানীয় দ্বীপের বাজেট অপশন; সব মিলিয়ে মালদ্বীপ হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তবে ভ্রমণের আগে খরচের পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা জরুরি।
logo-1-1740906910.png)