Logo
×

Follow Us

এশিয়া

নীলগিরির কোলে ভারতের ‘চকোলেট শহর’ উটি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২

নীলগিরির কোলে ভারতের ‘চকোলেট শহর’ উটি

দক্ষিণ ভারতের নীলগিরি পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা উটি এখন পর্যটকদের কাছে ভারতের নিজস্ব ‘চকোলেট শহর’ হিসেবে পরিচিত। কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি পথ, ইউক্যালিপটাসের গন্ধ আর হাতে গরম চকোলেটের কাপ; সব মিলিয়ে উটি যেন এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। প্রকৃতির সবুজ রূপের পাশাপাশি এখানকার হাতে তৈরি চকোলেট ভ্রমণকারীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। উটির অন্যতম আকর্ষণ এখানকার হাতে তৈরি চকোলেট। নীলগিরির ঠান্ডা আবহাওয়া চকোলেট তৈরির জন্য আদর্শ হওয়ায় অতিরিক্ত ফ্রিজিংয়ের প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় দুগ্ধশিল্প থেকে পাওয়া তাজা দুধ ও ক্রিম চকোলেটকে দেয় অনন্য স্বাদ। ফ্রুট-এন-নাট, ডার্ক চকোলেট কিংবা রাম-ফ্লেভারের চকোলেট ভ্রমণকারীদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। চ্যারিং ক্রস, কমার্শিয়াল রোড ও স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে থাকা ছোট দোকানগুলোতে কাচের কাউন্টারের ওপারে চকোলেট তৈরির দৃশ্য সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়।

উটির আবেদন শুধু চকোলেটে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে মন্থর জীবনযাত্রা, শান্ত পরিবেশ আর প্রকৃতির সৌন্দর্য ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। ইউক্যালিপটাসে ঢাকা বন, যত্নে সাজানো বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং লেকের ধারে হাঁটার অভিজ্ঞতা ভোলার নয়। এছাড়া নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন ভ্রমণকারীদের জন্য বাড়তি আনন্দ যোগ করে।

উটি ভ্রমণের সেরা সময় অক্টোবর থেকে জুন। গ্রীষ্মকালে সমতলের গরম থেকে বাঁচতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। সড়কপথে কোয়েম্বাটুর, মহীশূর বা বেঙ্গালুরু থেকে সহজেই পৌঁছানো যায়। নিকটবর্তী বিমানবন্দর কোয়েম্বাটুর, যা উটি থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে ট্যাক্সি বা বাসে যাওয়া যায়। ট্রেনে ভ্রমণ করতে চাইলে মেট্টুপালায়ম থেকে ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে চেপে উটি পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন।

প্রকৃতি, ইতিহাস আর হাতে তৈরি চকোলেটের মিষ্টি টানে উটি হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। নীলগিরির কোলের এই শৈলশহর ভ্রমণকারীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দেয়, যা স্মৃতিতে থেকে যায় দীর্ঘদিন।

Logo