সিঙ্গাপুরে বেতন না পাওয়া ৪০০ শ্রমিকের সাথে ঘটল অনন্য এক মানবিক ঘটনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১৪:২৭
সিঙ্গাপুরে বেতন না পাওয়া ৪০০ প্রবাসী শ্রমিকের সাথে ঘটেছে অভূতপূর্ব এক মানবিক ঘটনা। কোম্পানির কারণে বেতন পাচ্ছিলেন না প্রবাসী শ্রমিকরা। বেতন ছাড়া সিঙ্গাপুরে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল। বাসা ভাড়া বকেয়া পড়েছিল, দেশে সংসারের কাছে টাকা পাঠাতে পারছিলেন না।
সিএনএ খবরে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরে কেপিএ ইঞ্জিনিয়ারিং, এসকে ইন্ডাস্ট্রিজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানে ঘটে এমন ঘটনা। কোম্পানির মালিকপক্ষের লোকজন লাপাত্তা হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। বেশির ভাগ শ্রমিকের তিন মাসের বেতন বকেয়া পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকও রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইসলাম মো. রফিউল সিএনএ নিউজকে জানিয়েছেন, গত তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তিনিও দেশে পরিবারের কাছে কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি।
এই দুই কোম্পানিতে চাকরি করা শ্রমিকরা শেষমেশ দ্বারস্থ হন দেশটির ন্যাশনাল ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এনটিইউসি) ও মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স সেন্টার নামে দুটি শ্রমিক সংগঠনের। এই দুই সংগঠন সংকটে পড়া এসব প্রবাসী শ্রমিকের পাশে এসে দাঁড়ায়। জীবন চালাতে এই দুই সংগঠন ৪০০ প্রবাসী শ্রমিককে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেয়।
প্রত্যেক শ্রমিককে ১০০ সিঙ্গাপুর ডলার নগদ এবং ১০০ ডলারের ফেয়ারপ্রাইস ভাউচার দেওয়া হয়, যাতে তারা দৈনন্দিন খরচ চালাতে পারেন।
শুধু শ্রমিক সংগঠনই নয়, পাশে দাঁড়িয়েছে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ও। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের বিশেষ পাস দেওয়া হবে, যাতে তারা নতুন চাকরি খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত বৈধভাবে সিঙ্গাপুরে থাকতে পারেন। পাশাপাশি তাদের আবাসন, খাবার এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শ্রমিক সংগঠন এনটিইউসির মহাসচিব এনজি চি মেং জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০টি নতুন চাকরির সুযোগও খুঁজে বের করা হয়েছে। একই সঙ্গে বকেয়া বেতন আদায়ে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে শ্রমিক সংগঠনটি।
নতুন কর্মস্থলে বদলির আশ্বাস পাওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী ইসলাম মো. রফিউল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পেয়েছেন বকেয়া বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তাও।
শ্রমঘনিষ্ঠ দেশে শ্রমিকরাই উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশে শ্রমিকরা হন অবহেলিত। অনেক দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, তারা সময়মতো বেতন পান না। কর্মঘণ্টা অনেক বেশি। কিন্তু বেতনও কম। সিঙ্গাপুরের এই ঘটনা অনেক দেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)