Logo
×

Follow Us

এশিয়া

মালয়েশিয়ার মানব পাচার সিন্ডিকেটগুলো যেভাবে কাজ করে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮

মালয়েশিয়ার মানব পাচার সিন্ডিকেটগুলো যেভাবে কাজ করে

জোহর বাহরু ও আশপাশের উপকূলীয় জেলা মানব পাচারের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নোডে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ রেইডে ২০২৬ সালে একাধিক সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং হাজারের বেশি অননুমোদিত অভিবাসী আটক করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের সমস্যা কতটা বড় তা নির্দেশ করে। 

মালয়েশিয়ান জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টারের প্রতিবেদন ও পুলিশের বিবৃতিতে দেখা যায়, সিন্ডিকেটগুলো সাধারণত বহুজাতিক- মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও স্থানীয় ম্যানেজারদের সমন্বয়ে কাজ করে। তারা ‘টেকং’ (নৌ-চালক), ‘টেকং দারাত’ (গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার), হোল্ডিং‑হাউস কেয়ারটেকার ও অনলাইন রিক্রুটারদের একটি চেইন গঠন করে। অনেক কেসে সিন্ডিকেটের সদস্যদের বয়স ২০-৫০ বছরের মধ্যে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধে জড়িত। 

দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ স্ট্রেইট টাইমসের অনুসন্ধান বলছে, সিন্ডিকেটগুলো সাধারণত তিন ধাপে কাজ করে; যথা- (১) রিক্রুটিং: ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন বা সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে লোক সংগ্রহ; (২) ট্রানজিট ও হোল্ডিং: জোহরের উপকূলীয় হোল্ডিং হাউসে আটক রাখা; (৩) ট্রান্সপোর্ট: নৌকা বা স্থলপথে গন্তব্যে পাঠানো বা বিদেশে বিক্রি/শ্রমে বাধ্য করা। ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট জব্দ, ঋণবদ্ধতা সৃষ্টি ও শারীরিক-মানসিক হুমকি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 

সরকারি অভিযানে ধরা পড়া এক সিন্ডিকেটের ক্ষেত্রে প্রতি কর্মীর জন্য প্রায় ২৫ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ৫৩০০ ডলার চার্জ নেওয়া এবং কিছু চক্র মাসে দুই থেকে আড়াই লাখ রিঙ্গিত পর্যন্ত আয় করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এগুলো কেবল ধরা পড়া কেসের উদাহরণ; বাস্তবে আকার অনেক বড় হতে পারে। এই অর্থের বড় অংশ নগদে লেনদেন ও লুকানো চ্যানেলে পাচার করা হয়।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার আইন ও অভিবাসন আইন ব্যবহার করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, কিন্তু প্রমাণ সংগ্রহ, ভুক্তভোগীর ভয় ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ঘাটতি তদন্তকে জটিল করে তোলে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণ বলছে, সিন্ডিকেটগুলো ক্যাসিনো, অনলাইন স্ক্যাম ও ট্রান্সন্যাশনাল অপরাধের সঙ্গে জড়িত; তাই একক দেশীয় উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয়। 

প্রথমত, সীমান্ত‑স্তরের রিয়েল‑টাইম তথ্য শেয়ারিং ও যৌথ রেইড বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, অনলাইন নিয়োগ বিজ্ঞাপন ও ট্রানজিট হোল্ডিং মনিটরিং প্রযুক্তি চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত হটলাইন, নিরাপদ আশ্রয় ও ট্রান্সন্যাশনাল রেপ্যাট্রিয়েশন প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থ ও তথ্য ট্র্যাকিংও অপরিহার্য।

জোহর বাহরুতে মানব পাচার একটি জটিল, লাভজনক ও বহুজাতিক ব্যবসা। এটি রোধ করতে হলে স্থানীয় রেইডের পাশাপাশি প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সেবা একসঙ্গে জোরদার করতে হবে।

Logo