বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে ২০২১ সালে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে অতীতে যেসব কারণে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি রোধ করা।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে পাঁচ বছরের সমঝোতার মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এই চুক্তিতে মালয়েশিয়া সরকার নির্দিষ্ট এজেন্সি বাছাই করে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিয়েছিল। এর ফলে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে এবং অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
২০২২ সালে মালয়েশিয়া মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিল। এদের মধ্যে অনেকের মালিক ছিলেন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি। পরবর্তী সময়ে আরো ৭৬টি এজেন্সি যুক্ত হলেও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমেনি। কর্মীপ্রতি নির্ধারিত খরচ ছিল ৭৮ হাজার টাকা, কিন্তু বাস্তবে আদায় করা হয় পাঁচ লাখ টাকারও বেশি। অনেক কর্মী প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি, ভুয়া চাহিদাপত্র দিয়ে তাদের পাঠানো হয়েছিল।
জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটে থাকা এজেন্সিগুলোকে প্রতি কর্মীর জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছিল। এতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাসে মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী যেতে পারলেও শেষ সময়ে বিমানের টিকিট না পেয়ে প্রায় ১৭ হাজার কর্মী আটকে যায়।
বাংলাদেশ সরকার এবার চায় যোগ্য সব এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া হোক। প্রায় ৪৫২টি এজেন্সি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেছে। প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার এজেন্সি বাছাইয়ের শর্ত সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। লক্ষ্য হচ্ছে আর কোনো সিন্ডিকেট না হওয়া।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকরা প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন, অতীতের মতো সিন্ডিকেট যেন আর না হয়।
logo-1-1740906910.png)