Logo
×

Follow Us

এশিয়া

কোরিয়ায় বিয়ে করলেই বাড়ি, গাড়ি, মাসিক ভাতা, নগদ টাকা পুরস্কার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৫

কোরিয়ায় বিয়ে করলেই বাড়ি, গাড়ি, মাসিক ভাতা, নগদ টাকা পুরস্কার

দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ভয়াবহ জনসংখ্যা সংকটের মুখোমুখি। দেশটির জন্মহার এতটাই কম যে ২০৭০-এর দশকে মোট জনসংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন অর্ধেক মানুষ হবে প্রবীণ, আর কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাবে প্রায় দুই কোটিরও বেশি।

এই সংকট মোকাবিলায় গত দুই দশকে সরকার প্রায় ৩৬০ ট্রিলিয়ন উন (৩৬০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার) ব্যয় করেছে। তবুও জন্মহার ক্রমাগত কমছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। ২০২৩ সালে জন্মহার ছিল প্রতি নারী ০.৭২ সন্তান, যা ২০২৬ সালের শুরুতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৯৯।

দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় সরকার তরুণদের বিবাহে উৎসাহ দিতে ম্যাচমেকিং ইভেন্ট আয়োজন করছে। দেগু শহরের দালসিও জেলায় মেয়র লি তে-হুন ২০১৬ সালে এমন উদ্যোগ নেন। তিনি পার্ক তৈরি করেছেন, এমনকি বিশেষ মাসকটও বানিয়েছেন, যাতে তরুণরা ডেটিংয়ে উৎসাহিত হয়। তার মতে, জনসংখ্যা সংকট জলবায়ু সংকটের মতোই গুরুতর। তরুণদের শেখাতে হবে সন্তান নেওয়ার গুরুত্ব।

এই উদ্যোগে অনেক তরুণ-তরুণী একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। যেমন, জুং ইয়ে-ইউন (৩১) ও জিন হিউন গু (৩৮) স্থানীয় সরকারের আয়োজিত ম্যাচমেকিং ইভেন্টে পরিচিত হয়ে এখন বিবাহিত এবং সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

ইনচন শহরে নবদম্পতি ও নতুন অভিভাবকদের জন্য প্রতিদিন মাত্র এক ডলারে বাসস্থান দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে নতুন অভিভাবকরা পাচ্ছেন প্রায় ২ হাজার ডলার নগদ সহায়তা, দ্বিতীয় সন্তান থেকে তা বেড়ে হয় ৩ হাজার ডলার। এছাড়া মাসিক ভাতা হিসেবে প্রায় ১০০ ডলার দেওয়া হচ্ছে।

সিউলে নারীরা সন্তান জন্মদানের জন্য ২৫ বার পর্যন্ত আইভিএফ চিকিৎসা নিতে পারেন, যার বেশির ভাগ খরচ সরকার বহন করে। তুলনায় কানাডায় মাত্র একটি পূর্ণাঙ্গ আইভিএফ সাইকেল বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

সরকারের পাশাপাশি বড় কোম্পানিগুলোও জন্মহার বাড়াতে এগিয়ে এসেছে। সিউলভিত্তিক ভিডিও গেম কোম্পানি ক্রাফটন কর্মীদের প্রতি সন্তান জন্মের জন্য প্রায় ১ লাখ ডলার দিচ্ছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার ডলার এককালীন, আর বাকি ৪০ হাজার ডলার শিশুর শৈশবের বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া হয়।

কোম্পানিটি আরো সুবিধা দিয়েছে বিনামূল্যে ডে-কেয়ার, দুই বছরের পিতৃত্ব/মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং স্বয়ংক্রিয় নিয়োগ ব্যবস্থা, যাতে কর্মীরা ছুটি নিলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, জন্মহার না বাড়লে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

তবে গবেষকরা বলছেন, জন্মহার বাড়াতে এ ধরনের প্রণোদনা সব সময় কার্যকর হয় না। কানাডার জন্মহারও বর্তমানে ঐতিহাসিকভাবে কম (১.২৫)। অনেক নারী সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বা দেরিতে মাতৃত্ব বেছে নিচ্ছেন।

কুইন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম্যাক্সওয়েল হার্ট মনে করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বাড়লেও তা নীতির কারণে নাকি সামাজিক পরিবর্তনের কারণে এখনো স্পষ্ট নয়। হয়তো তরুণদের মধ্যে বিবাহ ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে মনোভাব বদলাচ্ছে।

Logo