Logo
×

Follow Us

এশিয়া

আর্মেনিয়ায় মানব পাচার রোধে নতুন আইন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:০৬

আর্মেনিয়ায় মানব পাচার রোধে নতুন আইন

আর্মেনিয়ায় মানব পাচার রোধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ইউরোপ কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ সংস্থা GRETA প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ ও সহায়তা প্রদানে উন্নতি হয়েছে। তবে শ্রম শোষণ প্রতিরোধ, সক্রিয় তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আরো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত তিন বছরে মোট ৯০ জন মানব পাচারের শিকার হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২২ জন শিশু। প্রশিক্ষণ ও নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে তদন্তের সংখ্যা বেড়েছে। শ্রম শোষণ এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ফৌজদারি আইনে মানব পাচার সম্পর্কিত ধারা যুক্ত হয়েছে। সংশোধিত শ্রম আইনে ‘বাধ্যতামূলক বা জোরপূর্বক শ্রম’ এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। শিশু অধিকার সুরক্ষায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আইনগত প্যাকেজও কার্যকর হয়েছে। GRETA ভুক্তভোগী শনাক্তকরণে গৃহীত পদক্ষেপ এবং সেবা প্রদানের ন্যূনতম মান নির্ধারণকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

আর্মেনিয়ায় মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়ায় দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ঘাটতি ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। ইয়াজিদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়েরা শিশু বিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া বিকল্প যত্ন থেকে বেরিয়ে আসা শিশু-কিশোর, প্রতিবন্ধী ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরাও পাচারের শিকার হতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ায় তারা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে পড়েছেন। নিয়োগ এজেন্সির অনিয়ম ও কোম্পানির দুর্বল তদারকি তাদের শোষণের সুযোগ তৈরি করছে।

GRETA বলছে, শিশু সুরক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর অর্থায়ন ও জনবল বাড়াতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য ও শ্রম পরিদর্শন সংস্থার সক্ষমতা বাড়িয়ে কর্মস্থলে আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে হবে। নিয়োগ ও অস্থায়ী কর্মসংস্থান এজেন্সিগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

GRETA অনলাইনে নিরাপত্তা জোরদার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মানব পাচার তদন্তে আর্মেনিয়ার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে আরো সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার এবং আইসিটি কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ কার্যকর হয়নি। কোনো ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ পাননি। অপরাধ তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহের সময় ক্ষতির পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। GRETA আরো বলেছে, মানব পাচারের মামলাগুলো দ্রুত ও সক্রিয়ভাবে তদন্ত করতে হবে এবং অপরাধগুলোকে ছোটখাটো অপরাধ হিসেবে নয়, বরং মানব পাচার হিসেবে বিচার করতে হবে।

Logo