বাংলাদেশ থেকে ভুটান ভ্রমণকারীদের কাছে পারো শহর এক স্বপ্নের গন্তব্য। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই ছোট্ট শহর শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও বিখ্যাত। সম্প্রতি ভুটান সরকার পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে ভিসা ও প্রবেশ নীতিতে সহজীকরণ এনেছে। ফলে এখন বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য পারো ভ্রমণ আরো সহজ হয়ে উঠেছে।
পারো শহরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো পারো জং। পাহাড়ের গায়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই ঐতিহাসিক দুর্গ যেন ভুটানের অতীতের গল্প বলে। এছাড়া রয়েছে তাকসাং প্রিসার্ভ বা টাইগার নেস্ট মঠ, যা পাহাড়ের খাড়া গায়ে ঝুলে থাকা এক বিস্ময়কর স্থাপনা। এখানে পৌঁছাতে হয় ট্রেকিং করে, আর সেই পথেই ভ্রমণকারীরা খুঁজে পান প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতার অনুভূতি।
ভুটান সরকার সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, পর্যটকদের জন্য প্রবেশ ফি ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। আগে যেসব শর্তে ভ্রমণকারীরা সমস্যায় পড়তেন, এখন তা অনেকটাই কমানো হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে যারা পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণে যেতে চান, তাদের জন্য পারো হয়ে উঠছে আরো আকর্ষণীয়।
পারোতে ভ্রমণ মানে শুধু পাহাড় দেখা নয়, বরং ভুটানের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া। এখানে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় পারো তশিচো জং উৎসব, যেখানে নৃত্য, সংগীত আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায় হাতে তৈরি শিল্পকর্ম, উলের পোশাক আর ঐতিহ্যবাহী খাবার।
পারো নদীর ধারে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পাহাড়ি হাওয়ায় ভেসে আসা ঠান্ডা বাতাস আর নদীর কলকল ধ্বনি মিলিয়ে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই কবিতা লিখছে। বসন্তকালে পারোর চারপাশে ফুটে ওঠে রঙিন ফুল, যা শহরকে রূপকথার মতো সাজিয়ে তোলে।
logo-1-1740906910.png)