পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত খাইবারপাস এক ঐতিহাসিক গিরিপথ। এটি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। প্রাচীনকাল থেকে এটি ছিল বাণিজ্য ও সামরিক অভিযানের প্রধান পথ। মুঘল, পারসিক, গ্রিক, এমনকি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সৈন্যরা এই পথ দিয়েই প্রবেশ করেছে দক্ষিণ এশিয়ায়।
খাইবারপাস শুধু একটি গিরিপথ নয়, বরং ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়িয়ে বোঝা যায়, কীভাবে এই পথ দিয়ে সভ্যতার আদান-প্রদান হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত খাইবার রেলওয়ে আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রেলপথের টানেল ও ব্রিজগুলো ভ্রমণকারীদের নিয়ে যায় ঔপনিবেশিক যুগের স্মৃতিতে।
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণকারীরা ইসলামাবাদ বা পেশোয়ার হয়ে সহজেই পৌঁছাতে পারেন খাইবারপাসে। পেশোয়ার শহর থেকে গাড়িতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার পথ। পথে দেখা যায় পাহাড়ি গ্রাম, বাজার আর পশতুন সংস্কৃতির ছোঁয়া। স্থানীয়দের আতিথেয়তা ভ্রমণকারীদের মনে গেঁথে যায়।
যদিও খাইবারপাস মূলত ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত, তবুও এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও কম নয়। খাড়া পাহাড়, আঁকাবাঁকা রাস্তা আর নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই ইতিহাসের পাহারাদার হয়ে আছে। সূর্যাস্তের সময় পাহাড়ি রঙে রাঙানো আকাশ ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে।
খাইবারপাস ভ্রমণ মানে পশতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া। স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায় ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, গহনা আর খাবার। পেশোয়ারের কিস্সা খওয়ানি বাজারে বসে চা খেতে খেতেই শোনা যায় শত বছরের গল্প।
খাইবারপাস সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ভ্রমণের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা জরুরি। স্থানীয় গাইডের সঙ্গে ভ্রমণ করলে অভিজ্ঞতা আরো সমৃদ্ধ হয়। পাকিস্তান সরকার পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
পাকিস্তানের খাইবারপাস ভ্রমণ মানে ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে সভ্যতার গল্প শোনা। প্রাচীন সিল্ক রুটের এই গিরিপথে ভ্রমণকারীরা খুঁজে পান অতীতের মহিমা আর বর্তমানের সৌন্দর্য। পাহাড়, পথ আর মানুষের গল্প মিলিয়ে খাইবারপাস হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
logo-1-1740906910.png)