Logo
×

Follow Us

এশিয়া

বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় আটক শিবির

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১০:৫৭

বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় আটক শিবির

পশ্চিমবঙ্গ সরকার কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের আটক রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে গত এক বছরে এ ধরনের শিবির গড়ে তোলা হলেও পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।

সরকারি নোটিশে বলা হয়েছে, জেল থেকে সাজার মেয়াদ শেষে ছাড়া পাওয়া বিদেশি নাগরিকরা যারা নিজ দেশে প্রত্যর্পণের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদেরও এসব হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বেআইনিভাবে ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে প্রত্যর্পণের জন্য প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে।

গত বছর উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চালানো অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বাংলাভাষী মুসলমান পরিযায়ী শ্রমিক, যারা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক। পরিচয় যাচাইয়ের পর অনেককে ছেড়ে দেওয়া হলেও বেশ কিছু পরিবারকে বাংলাদেশে ‘পুশ-আউট’ করা হয়েছে। এমনকি গর্ভবতী নারীসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পর আবার ফিরিয়ে আনার ঘটনাও ঘটেছে।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, হোল্ডিং সেন্টারে খাবার অপর্যাপ্ত ছিল, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি এবং অনেক সময় ছয়-সাত দিন পর্যন্ত আটক রাখা হয়েছে। এসব শিবির মূলত অস্থায়ীভাবে কোনো অনুষ্ঠানবাড়ি বা অফিস প্রাঙ্গণে তৈরি করা হতো।

অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসু প্রশ্ন তুলেছেন, “কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী আছেন পশ্চিমবঙ্গে? সেই তথ্য রাজ্য সরকার আগে প্রকাশ করুক।” তিনি তথ্যের অধিকার আইনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কতজনকে আটক করা হয়েছে বা বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বাংলাভাষী মুসলমানদের অনেক সময় শুধু ভাষা ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আটক করা হয়। এতে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরাও হেনস্তার শিকার হন।

Logo