হিমাচল প্রদেশের পার্বতী উপত্যকায় অবস্থিত মালানা গ্রামকে ভারতের সবচেয়ে রহস্যময় গ্রাম বলা হয়। প্রায় ২ হাজার ৬৫২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন গণতন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন বাসিন্দার এই গ্রামে বাইরের মানুষের প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কোনো কিছু স্পর্শ করলে জরিমানা গুনতে হয় কয়েক হাজার রুপি পর্যন্ত।
মালানার মানুষরা নিজেদের আলাদা পরিচয় বজায় রেখেছে। তারা ‘কানাশি’ নামে এক বিশেষ ভাষায় কথা বলে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয় না এবং এর কোনো লিখিত রূপ নেই। বংশপরম্পরায় তারা নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। বাইরের কারো সঙ্গে বিবাহ করলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হতে হয়।
গ্রামের শাসনব্যবস্থা দেবতা জামলুর নির্দেশে পরিচালিত হয়। এখানে দুটি পরিষদ রয়েছে- কনিষ্ঠথাং (নিম্নকক্ষ) ও জ্যেষ্ঠথাং (উচ্চকক্ষ)। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে দেবতার কাছ থেকে, যা স্থানীয় ‘গুর’ বা ওরাকলের মাধ্যমে জনগণকে জানানো হয়। এ কারণে মালানাকে বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্রগুলোর একটি বলা হয়।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, তারা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের সেনাদের বংশধর। যদিও জেনেটিক গবেষণা তাদের ইন্দো-আর্য উৎসের দিকে ইঙ্গিত করে। গ্রামটি আরো বিখ্যাত ‘মালানা ক্রিম’ নামে পরিচিত হাশিশের জন্য, যা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি হয় এবং বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
মালানায় বাইরের মানুষদের রাত কাটানো নিষিদ্ধ। দিনের বেলায় প্রবেশ করা গেলেও শারীরিক স্পর্শ, হাত মেলানো, মন্দিরে ছবি তোলা সবই নিষিদ্ধ। বাড়িগুলো বহুস্তর বিশিষ্ট; নিচতলায় গবাদি পশু, উপরের তলায় শস্য সংরক্ষণ ও বয়নকাজ হয়।
মালানা গ্রাম ভারতের এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নিদর্শন। আধুনিকতার ছোঁয়া এড়িয়ে তারা নিজেদের ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আজও অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
logo-1-1740906910.png)