Logo
×

Follow Us

এশিয়া

ভারতের নাগরিকত্ব পেতে তিন দেশের জন্য কঠিন শর্ত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৯:১২

ভারতের নাগরিকত্ব পেতে তিন দেশের জন্য কঠিন শর্ত

ভারত সরকার নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অমুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৭ মে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘নাগরিকত্ব বিধিমালা, ২০০৯’ সংশোধনের ঘোষণা দেয়।

নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর কাছে বৈধ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকলে তার নম্বর, ইস্যুর তারিখ, স্থান এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়সীমা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। নাগরিকত্ব অনুমোদন হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে সেই পাসপোর্ট নিকটস্থ ডাক বিভাগের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট বা সুপারিনটেনডেন্ট কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। যদি আবেদনকারী মিথ্যা তথ্য দেন, তবে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা হতে পারে।

এই নিয়ম মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অমুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য প্রযোজ্য। হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ এ সুবিধার আওতায় আসবেন। তাদের নাগরিকত্বের আবেদন করতে হলে প্রবেশের বছর ও মাসও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

২০১৯ সালে পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা নথিপত্রহীন অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ থেকে আইনটি কার্যকর হয়। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক আবেদনকারীর কাছে পর্যাপ্ত নথি নেই। নতুন নিয়মে পাসপোর্টের তথ্য বাধ্যতামূলক করায় তাদের জন্য নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সম্প্রতি বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই সংশোধনকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের মতুয়া সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সিএএ আইনের কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের নাগরিকত্বের দাবি পূরণে নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও নথিপত্রের অভাবে অনেকেই সমস্যায় পড়তে পারেন।

আইনটি মূলত নথিপত্রহীন শরণার্থীদের জন্য তৈরি করা হলেও নতুন সংশোধন তাদের জন্য আরো জটিলতা তৈরি করেছে। আবেদনকারীদের পাসপোর্টের তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনেককে নাগরিকত্বের বাইরে ঠেলে দিতে পারে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই নিয়ম বাস্তবায়ন হলে প্রকৃত শরণার্থীরা নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আরো বড় বাধার মুখে পড়বেন।

Logo