Logo
×

Follow Us

এশিয়া

রিজার্ভ সংকট: ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণ না করতে মোদির অনুরোধ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:১৫

রিজার্ভ সংকট: ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণ না করতে মোদির অনুরোধ

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় চাপ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে বিদেশ ভ্রমণ কমানো, স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী জীবনযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

১০ মে দক্ষিণ ভারতের হায়দরাবাদে এক জনসভায় তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় যেভাবে মানুষ বাসা থেকে কাজ করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে হবে। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমলে জ্বালানি খরচও কমবে। তিনি অনলাইন বৈঠক বাড়ানো, গণপরিবহন ব্যবহার এবং কারপুলিংয়ের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি পরিবারগুলোকে রান্নার তেলের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, এটি যেমন স্বাস্থ্যসম্মত, তেমনি দেশপ্রেমেরও পরিচায়ক।

মোদি অন্তত এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভারতীয়দের স্বর্ণ কেনা থেকেও বিরত থাকতে বলেন। কৃষকদের সার ব্যবহারের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনারও আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ের ওপর আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫ ডলারের বেশি। প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া এই দাম ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনকে আরো জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগামী জাহাজে নৌ অবরোধ ঘোষণা করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

জ্বালানির দাম বাড়ায় আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়াও বেড়েছে। ফলে বিদেশ সফরে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরিয়া ও অন্যান্য সার রফতানি ব্যাহত হওয়ায় কৃষি খাতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, ১ মে পর্যন্ত দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৬৯০ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। মার্চের শেষের তুলনায় এটি প্রায় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার কম। যুদ্ধ শুরুর আগে রিজার্ভ ছিল ৭২৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৮৪ বিলিয়ন ডলারে।

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। গত অর্থবছরে দেশটি ১২৩ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। একই সময়ে ৭২ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ আমদানি করেছে, যা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিদেশ ভ্রমণেও ভারতীয়দের ব্যয় ব্যাপক। ২০২৩-২৪ সালে বিদেশ সফরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইউরিয়া আমদানিকারক দেশ, গত বছর প্রায় ১ কোটি টন ইউরিয়া আমদানি করেছে।

Logo