ভারত সরকার পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে বিদেশি পর্যটকরা সহজে ভারতে ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে শুধু বিদেশি নয়, দেশীয় পর্যটকদের জন্যও ভারতের নানা গন্তব্যে রয়েছে বিদেশি আবহের অভিজ্ঞতা। ভারতের কয়েকটি জায়গা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, সেগুলো বিদেশি বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রের প্রতিরূপ মনে হয়।
আলেপ্পি, কেরালা
ভেনিসের খালপথের মতোই আলেপ্পির ব্যাকওয়াটার পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানে নৌকায় ভ্রমণ যেন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। হাউসবোটে রাত কাটানো, পানির ওপর ভেসে থাকা গ্রামগুলোর জীবনযাত্রা দেখা এবং শান্ত পরিবেশে সূর্যাস্ত উপভোগ করা আলেপ্পিকে করে তুলেছে এক অনন্য গন্তব্য।
উটি, তামিলনাডু
ইংল্যান্ডের পাহাড়ি শহরের আবহ পাওয়া যায় উটিতে। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা চা বাগান, ঠান্ডা আবহাওয়া আর কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল পর্যটকদের মন ভরিয়ে দেয়। উটির লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং পাহাড়ি ট্রেন ভ্রমণ এখানে আসা মানুষদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে।
খাজ্জিয়ার, হিমাচল প্রদেশ
‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত খাজ্জিয়ার যেন ইউরোপেরই কোনো অংশ। বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসে ঢাকা মাঠ, চারপাশে পাহাড়ি বন আর নীল আকাশের নিচে শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানে ট্রেকিং, ঘোড়ায় চড়া এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে।
মুন্নার, কেরালা
মুন্নারকে বলা হয় ভারতের পাহাড়ি রত্ন। ইংল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলের মতোই এখানে চা বাগান বিস্তৃত। ঠান্ডা আবহাওয়া, কুয়াশায় মোড়া সকাল আর পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। মুন্নারের চা জাদুঘর এবং পাহাড়ি ভিউপয়েন্ট ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা।
গ্যান্ডিকোটা, অন্ধ্রপ্রদেশ
‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন অব ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত গ্যান্ডিকোটা বিশাল গিরিখাত ও লালচে পাথুরে দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত। আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মতোই এখানে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির মহিমা অনুভব করা যায়। গ্যান্ডিকোটা দুর্গ ও পেন্নার নদীর তীর পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
সুন্দরবন
‘মিনি অ্যামাজন’ নামে পরিচিত সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল এই বন ভ্রমণকারীদের জন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। নদীপথে নৌকায় ভ্রমণ, ঘন জঙ্গলের রহস্যময় পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি সুন্দরবনকে করে তুলেছে অনন্য।
পুদুচেরি
ফরাসি রিভিয়েরার আবহ পাওয়া যায় পুদুচেরিতে। ফরাসি স্থাপত্য, রঙিন ক্যাফে সংস্কৃতি এবং সমুদ্রতীরের সৌন্দর্য পর্যটকদের মনে বিদেশি আবহ এনে দেয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সমুদ্রের ধারে হাঁটা এবং ফরাসি ঐতিহ্যের ছোঁয়া পুদুচেরিকে করে তুলেছে ভ্রমণকারীদের প্রিয় গন্তব্য।
ভারত সরকার মনে করছে, পর্যটন ভিসা চালুর ফলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। এতে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দেশীয় পর্যটকরাও বিদেশি আবহে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন দেশের ভেতরেই।
ভারতে পর্যটন ভিসা চালুর ফলে দেশটির পর্যটন খাত নতুন গতি পাবে। বিদেশি পর্যটকরা যেমন সহজে ভ্রমণ করতে পারবেন, তেমনি দেশীয় পর্যটকরাও বিদেশি আবহে সাজানো গন্তব্যে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
logo-1-1740906910.png)