থাইল্যান্ডে বিদেশি পর্যটকদের উচ্ছৃঙ্খল ও আপত্তিকর আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকক, পাতায়া ও ফুকেটসহ জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে একাধিক বিতর্কিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এ নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব পর্যটক অনুপযুক্ত আচরণ করবে বা থাই আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড ও থাইল্যান্ডের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী আচরণে শাস্তি দেওয়া হবে।
সম্প্রতি পাতায়ায় চারটি যুগলকে প্রকাশ্যে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই এলাকায় এক পর্যটক চলন্ত গাড়ির ছাদে অ্যাক্রোব্যাটিক স্টান্ট করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। ফুকেটে এক স্প্যানিশ পুরুষ ও এক পেরুভিয়ান নারী চলন্ত টুক-টুকে যৌনমিলনের কথা স্বীকার করলে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। গত মাসে সৈকতে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে লিপ্ত থাকার ভিডিও ভাইরাল হলে এক ফরাসি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে আরেক ফরাসি দম্পতিকে অশালীন আচরণের কারণে কালো তালিকাভুক্ত করে ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন জানিয়েছেন, জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে। প্রকাশ্য স্থানে নগ্নতা বা যৌন কার্যকলাপের জন্য সর্বোচ্চ ৫,০০০ থাই বাত (প্রায় ১৫৫ ডলার) জরিমানা হতে পারে।
থাই সরকার আশা করছে, এ বছর দেশটিতে প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক আসবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পর্যটনের চাহিদায় প্রভাব পড়তে পারে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিলে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কমেছে। ইউরোপীয় পর্যটকের সংখ্যা কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
logo-1-1740906910.png)