মালয়েশিয়ায় শ্রমিক সংকট; দ্রুত বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের দাবী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:৪৩
মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (এমইএফ) জানিয়েছে, সম্প্রতি ঘোষিত মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০ (পিআরএম ২.০) শ্রমবাজারে চাপ কমালেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক ফেরত পাঠানোয় শিল্প, নির্মাণ ও কৃষি খাতে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে।
এমইএফ সভাপতি দাতুক সৈয়দ হুসাইন সৈয়দ হুসমান বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন অনিবন্ধিত শ্রমিকদের সংখ্যা কমাতে সহায়ক হলেও শ্রমনীতি দুর্বলতার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বারবার অস্থায়ী কর্মসূচির ওপর নির্ভর করছে, অথচ স্থায়ী ও পূর্বানুমানযোগ্য শ্রমনীতি গড়ে তোলা হয়নি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শ্রমিক ফেরত পাঠানোর পর যদি দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া না হয়, তবে শ্রমঘন শিল্পগুলোতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। বর্তমান নীতি শ্রমিক সংখ্যা কমানোর দিকে বেশি মনোযোগী, অথচ তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধ করার উদ্যোগ কম। এতে ব্যবসায়ীরা বাড়তি খরচের চাপের পাশাপাশি শ্রম সংকটে পড়বেন।
এমইএফ প্রস্তাব দিয়েছে, বিদেশি শ্রমিক অনুমোদন দ্রুত করতে হবে এবং ডিজিটালাইজেশন বাড়াতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমে।
অ্যাসোসিয়েটেড চাইনিজ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এএসসিসিআইএম) সভাপতি দাতুক এনগ ইহ পিয়ং বলেছেন, ব্যবসায়ীরা বৈধ শ্রমিক নিয়েই কাজ করতে চান। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার যেন প্রক্রিয়া আরও সহজ করে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করে, যাতে নিয়োগকর্তারা সময়মতো শ্রমিক বৈধ করতে পারেন।
মালয়েশিয়ান ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (প্রিমাস) সভাপতি দাতুক জে. গোবিন্দাসামি প্রস্তাব দিয়েছেন, বিদ্যমান অনিবন্ধিত শ্রমিকদের কঠোর শর্তে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হোক। তিনি বলেন, এসব শ্রমিক ইতোমধ্যে প্রশিক্ষিত এবং কাজ করতে আগ্রহী। তাঁদের বৈধ করলে সরকারও বহিষ্কার ব্যয় কমাতে পারবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, এক বছরের মেয়াদি পিআরএম ২.০ কর্মসূচি, যা এপ্রিলের শেষে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা বাড়িয়ে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত করা হয়েছে। গত এক বছরে ১১২ দেশের প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার অনিবন্ধিত অভিবাসী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। জরিমানা ও অন্যান্য ফি থেকে সরকার আয় করেছে প্রায় ১২৭ মিলিয়ন রিঙ্গিত।
logo-1-1740906910.png)