Logo
×

Follow Us

এশিয়া

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে সিন্ডিকেটের শঙ্কা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৩

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে সিন্ডিকেটের শঙ্কা

দুই বছর বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারো খোলার পথে। দুই দেশের সরকারের আন্তরিকতায় নতুন আশার সঞ্চার হলেও জনশক্তি রপ্তানি খাতের অংশীজনরা আশঙ্কা করছেন, আগের মতোই সিন্ডিকেটবাজি ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

সরকার বলছে, এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। দালালের দৌরাত্ম্য রুখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করা হচ্ছে। অভিবাসন ব্যয়ের পুরো ভার থাকবে নিয়োগকর্তার ওপর। একই সঙ্গে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন হবে। তবে শ্রমবাজার কবে থেকে চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

জনশক্তি রপ্তানি খাতের বিশিষ্টজনরা বলছেন, সীমিত এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগের কথা বলায় ফের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, আগের সিন্ডিকেটই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার মূল কারণ ছিল। এবারো যদি একইভাবে “যোগ্যতার নামে” সীমিত এজেন্সি বাছাই করা হয়, তবে আবারো শ্রমিকরা জিম্মি হয়ে পড়বেন।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কলকারখানা, নির্মাণ শিল্প ও কৃষি খামারে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বর্তমানে দেশটিতে ৮ লাখের বেশি বাংলাদেশি বৈধভাবে কাজ করছেন, যা দেশটির মোট বিদেশি শ্রমশক্তির ৩৭ শতাংশ। ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫১ হাজারের বেশি শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন।

তবে নানা অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারণে ২০২৪ সালের মে মাসে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক কলিং ভিসা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও যেতে পারেননি। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দুর্নীতি, কাজ ও বেতন না পাওয়ার অভিযোগে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ রাখে।

বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে শ্রমবাজার খোলা হবে।

তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “জিরো কস্ট” বা বিনা খরচে শ্রমিক পাঠানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে তা সম্ভব নয়। এটি ভাঁওতাবাজি, যার মাধ্যমে আবারো সীমিত এজেন্সির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, মালয়েশিয়া সব দেশ থেকেই কর্মী নেবে, তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে এজেন্সি বাছাই করবে। যদি তা স্বচ্ছভাবে হয়, তবে আপত্তি নেই। তবে সিলেকটিভিটি থাকলে সিন্ডিকেটের আশঙ্কা থেকেই যায়।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, সিন্ডিকেশন কোনো ভালো ফলাফল আনে না। আগের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমিক পাঠিয়ে রেমিট্যান্সে উন্নতি হয়নি। তাই নতুন সরকারের কাছে দাবি থাকবে, কোনোভাবেই সিন্ডিকেশনের দিকে না যেতে।

Logo