মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার কারণে জীবন বাজি রেখে পালাচ্ছেন। অনেকেই বাংলাদেশে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেন, আবার কেউ কেউ সেখান থেকে আরো দূরে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শরণার্থী স্থলপথে পালিয়ে আসেন। গত চার বছরে প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে দেশ ছাড়েন, এর মধ্যে মাত্র সাত শতাংশ সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। তবে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সমুদ্রপথে পালানোর প্রবণতা বাড়ছে।
২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার শরণার্থী নৌকায় পালিয়েছেন। ২০১৯ সালে সংখ্যা ছিল মাত্র ১ হাজার ৩০০ জন, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার জনের বেশি। ২০২৫ সালে কিছুটা কমে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন হলেও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত থাকে।
জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ৩০০ জন সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে ২০২৫ সালে।
শরণার্থীদের প্রধান গন্তব্য ছিল মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই নিরাপদ এলাকা। এরপর ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন অনেকে। নৌকাগুলো সাধারণত অতি ভঙ্গুর কাঠের তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে সব সময়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সহিংসতা, দারিদ্র্য ও শরণার্থী ক্যাম্পের অমানবিক পরিস্থিতি মানুষকে এমন বিপজ্জনক যাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, ঝুঁকি নিয়েও সমুদ্রপথে পালানো তাদের একমাত্র আশার আলো।
logo-1-1740906910.png)