অভিবাসী শ্রমিকদের মেডিকেল টেস্টের সিন্ডিকেট ভাঙল নেপাল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৮
নেপাল সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দীর্ঘদিনের একচেটিয়া ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে। এখন থেকে সরকারি হাসপাতালও এই পরীক্ষা করতে পারবে, ফলে খরচ কমবে এবং সেবার সুযোগ বাড়বে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রাতোপাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। এতদিন কেবলমাত্র সীমিত কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই পরীক্ষা করার অনুমতি পেত। এ ব্যবস্থা নিয়ে শ্রমিকরা অভিযোগ করতেন- অতিরিক্ত ফি, সীমিত সুযোগ এবং সেবার মানের ঘাটতি। এবার সরকারি হাসপাতালসহ অনুমোদিত সব প্রতিষ্ঠান এই পরীক্ষা করতে পারবে।
শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় পুরনো বিধি সংশোধন করে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, ফলে খরচ কমবে এবং সেবার মান উন্নত হবে। অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।
অভিবাসী শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার আগে ৩২ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। এতদিন কেবল নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই এই পরীক্ষা করত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালও এই পরীক্ষা করতে পারবে এবং তাদের দেওয়া রিপোর্ট বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিগগিরই বিস্তারিত নির্দেশিকা ও মানদণ্ড প্রকাশ করা হবে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের জন্য আহ্বান জানানো হবে। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যারা সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা ও অবকাঠামো যাচাই করবে।
সরকার বলছে, প্রতিযোগিতা বাড়লে ফি কমবে, ফলে অভিবাসন খরচও কমে যাবে। শ্রমিকরা নিজেদের সুবিধামতো প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারবেন। জেলা ও প্রাদেশিক পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালেও সেবা পাওয়া যাবে, ফলে দূরবর্তী এলাকার শ্রমিকদের জন্য সুবিধা বাড়বে।
এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে যাবে এবং প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ হবে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার প্রয়োজনও কমবে। শ্রমিকরা দ্রুত সেবা পাবেন এবং মানসম্মত পরীক্ষা নিশ্চিত হবে।
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ও স্বার্থের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রাখছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কারো ব্যবসা বন্ধ করার জন্য নয়, বরং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সিস্টেমকে শক্তিশালী করার জন্য।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে নতুন নির্দেশিকা তৈরি, যোগ্য প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্যায়ন। সরকারের আশা, এই সিদ্ধান্ত অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।
logo-1-1740906910.png)