Logo
×

Follow Us

এশিয়া

ভারতে শুরু হলো বহুল বিতর্কিত ও ঐতিহাসিক জনশুমারি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৭

ভারতে শুরু হলো বহুল বিতর্কিত ও ঐতিহাসিক জনশুমারি

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত পাঁচ বছর বিলম্বের পর নতুন জনশুমারি শুরু করেছে। এবারের জনশুমারিতে প্রায় এক শতাব্দী পর প্রথমবারের মতো জাতি গণনা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মানুষকে নিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ৩০ লাখেরও বেশি কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।  

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনশুমারি দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ির তালিকা ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জনসংখ্যা গণনা শুরু হবে, যেখানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসন, উর্বরতা এবং জাতি সম্পর্কিত তথ্য নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে আগামী বছরের ৩১ মার্চ। এবারের জনশুমারি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে, যেখানে স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং মানুষ চাইলে অনলাইনে নিজে তথ্য জমা দিতে পারবে।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনশুমারি শুধু জনসংখ্যা গণনা নয়, বরং নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ দীপা সিনহা বলেন, জনশুমারি থেকে পাওয়া তথ্য দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারণে ব্যবহার হয়। এবারের জনশুমারি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সরকার জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকা পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে। এতে উত্তর ভারতের জনবহুল অঞ্চলগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব আরো বাড়তে পারে, যা দক্ষিণে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এছাড়া নারীদের জন্য সংসদে এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের আইনও জনশুমারির ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। ফলে এবারের জনশুমারি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।  

তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক হচ্ছে জাতি গণনা। ১৯৩১ সালের পর থেকে পূর্ণাঙ্গ জাতি গণনা আর হয়নি। স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে সরকার জাতি গণনা বন্ধ করে দেয় সামাজিক বিভাজন এড়ানোর জন্য। তবে দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সীমিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো প্রত্যেককে তাদের জাতি জানাতে হবে। অর্থনীতিবিদ অশ্বিনী দেশপান্ডে বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হলেও অত্যন্ত বিতর্কিত। সমর্থকরা মনে করেন, জাতি গণনা ছাড়া বৈষম্য ও সুযোগ বণ্টনের সঠিক চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। বিরোধীরা বলছেন, এতে জাতিগত বিভাজন আরো গভীর হবে।  

বিশেষজ্ঞ সুকদেব থোরাত বলেন, দলিত, আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা এখনো বৈষম্যের শিকার। তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে জাতি গণনা অপরিহার্য। তিনি প্রস্তাব দেন, শুধু সামাজিক-অর্থনৈতিক তথ্য নয়, বরং বৈষম্য ও অচ্ছুত প্রথা সম্পর্কেও প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।  

এদিকে উদ্বেগ রয়েছে জনশুমারির তথ্য কীভাবে ব্যবহার হবে তা নিয়ে। বিজেপি সরকার জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (NRC) এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করেছে, যা মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে সমালোচিত। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, জনশুমারির তথ্য নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ব্যবহার হতে পারে।

Logo