Logo
×

Follow Us

এশিয়া

সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় যে ১১টি দেশে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২০

সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় যে ১১টি দেশে

আন্তর্জাতিক লিভিংয়ের নতুন রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৬ সালে সবচেয়ে সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় এমন ১১টি দেশের নাম। দ্বিতীয় পাসপোর্টের প্রতি আগ্রহ বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান নাগরিক দ্বিতীয় পাসপোর্ট নিতে চান বা ইতোমধ্যেই নিয়েছেন। অনেকেই বিদেশে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। এই প্রেক্ষাপটে নাগরিকত্ব পাওয়ার সহজ উপায়গুলো নিয়ে রিপোর্টটিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।  

রিপোর্টে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুত উপায় হলো সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট বা বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে সেই দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। একে অনেক সময় “পাসপোর্ট কেনা” বলা হলেও আসলে এটি একটি বৈধ বিনিয়োগ প্রক্রিয়া। বিনিয়োগের পর নাগরিকত্ব দেওয়া হয় এবং সেই সঙ্গে পাসপোর্টও পাওয়া যায়।

গত এক দশকে এই খাত বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। সাইপ্রাস ২০২০ সালে তার প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেয় এবং মাল্টাও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়ে নাগরিকত্ব বিক্রির সুযোগ বন্ধ করে দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্পষ্ট করেছে, সেনজেন ভিসা সুবিধাসহ নাগরিকত্ব বিক্রি করলে তারা কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ফলে এখনকার প্রোগ্রামগুলোতে কঠোর যাচাই-বাছাই, বাড়তি খরচ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলকে বলা হচ্ছে এই খাতের কেন্দ্রবিন্দু। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ১৯৮৪ সালে প্রথম এই ধরনের প্রোগ্রাম চালু করে। বর্তমানে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার সরকারি অনুদান বা ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা তুলনামূলকভাবে নমনীয় শর্ত দিয়েছে। এখানে ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার অনুদান বা ৩ লাখ ডলার রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করতে হয়। তবে শর্ত হিসেবে প্রথম পাঁচ বছরে অন্তত পাঁচ দিন দেশটিতে থাকতে হবে। ডোমিনিকা সবচেয়ে সাশ্রয়ী প্রোগ্রামগুলোর একটি, যেখানে ২ লাখ ডলার বিনিয়োগে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। গ্রেনাডা বিশেষ সুবিধা দিয়েছে, এখানকার নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের E-2 ইনভেস্টর ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। সেন্ট লুসিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া যায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার অনুদান বা ৩ লাখ ডলার রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগে।  

ইউরোপে নর্থ মেসিডোনিয়া প্রায় ২ লাখ ইউরো বিনিয়োগে নাগরিকত্ব দিচ্ছে। তবে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়। তুরস্কে ৪ লাখ ডলার রিয়েল এস্টেট ক্রয় বা ৫ লাখ ডলার ব্যাংক ডিপোজিটে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়।  

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় মিসর মাত্র ১ লাখ ডলার অনুদান বা ৫ লাখ ডলার ব্যাংক ডিপোজিটে নাগরিকত্ব দিচ্ছে। জর্ডান তুলনামূলকভাবে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে প্রোগ্রাম চালু করেছে, যেখানে প্রায় ১.৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হয়।  

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কম্বোডিয়া প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ডলার বিনিয়োগে নাগরিকত্ব দিচ্ছে। ভানুয়াতু সবচেয়ে দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার দেশ হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বিনিয়োগে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। তবে দেশটি কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে এবং কিছু ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা সীমিত হয়েছে।  

রিপোর্টে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় পাসপোর্ট মূলত ভ্রমণ, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তার জন্য একটি বিকল্প। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কর দায় থেকে মুক্তি দেয় না। তবে অনেকের কাছে এর আসল মূল্য হলো একটি বিকল্প থাকা। অনিশ্চিত বিশ্বে এই বিকল্পই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় সম্পদ।

Logo