মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ মোট ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চেরাস এলাকার তামান ইমাসে পরিচালিত এ অভিযানে অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি এক বিবৃতিতে জানান, অভিযানে ভবনের ছাদ ও অন্ধকার স্থানে লুকিয়ে থাকা প্রায় ১৫ জন বিদেশিকে ড্রোনের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পরে তাদের আটক করা হয়।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে মোট ১ হাজার ৮৭ জনের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জনকে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অপরাধে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ৫২ জন নারী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক রয়েছেন।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অতিরিক্ত সময় অবস্থান (ওভারস্টে) এবং অননুমোদিত কার্ড ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
লোকমান এফেন্দি রামলি আরো জানান, গত একদিনে দেশজুড়ে মোট ১ হাজার ৬৯টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ১৭ হাজার ৭৯৩ জনের নথিপত্র যাচাই করে ৩ হাজার ৬৯১ জন অবৈধ অভিবাসী এবং ১১০ জন নিয়োগকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্ট করেছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়দাতা বা নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অবস্থানরতদের জন্য সরকারের ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি চলবে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর থেকে আরো কঠোর অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)