অভিবাসন প্রতারণা মামলায় উত্তর কোরিয়াকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৯
জাপানের একটি আদালত অভিবাসন প্রতারণা মামলায় উত্তর কোরিয়াকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, চারজন ভুক্তভোগীকে মোট ৮ কোটি ৮৮ লাখ ইয়েন (প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
কয়েক দশক আগে উত্তর কোরিয়ার প্রচারণায় বলা হয়েছিল, দেশটি ‘পৃথিবীর স্বর্গ’। এই প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে চারজন সেখানে যান। কিন্তু পৌঁছানোর পর তারা কঠোর ও অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তাদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয় এবং চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তারা পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
টোকিও জেলা আদালতের বিচারক তাইইচি কামিনো রায়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার কারণে এই মানুষদের জীবনের অধিকাংশ সময় নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও বাস্তবে ক্ষতিপূরণ আদায় করা কঠিন হবে, কারণ উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই মামলাকে উপেক্ষা করে আসছে এবং কোনো সমন বা নির্দেশে সাড়া দেয়নি।
১৯৫৯ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার ‘জাইনিচি কোরিয়ান’ (জাপানে বসবাসরত জাতিগত কোরিয়ান) একটি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় উত্তর কোরিয়ায় স্থানান্তরিত হন। তাদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তাদের জোর করে খামার ও কারখানায় কাজ করানো হতো এবং দেশত্যাগের সুযোগ ছিল না।
মামলার অন্যতম বাদী এইকো কাওয়াসাকি ১৯৬০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে উত্তর কোরিয়ায় যান। দীর্ঘ ৪৩ বছর পর ২০০৩ সালে তিনি পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। বর্তমানে তার বয়স ৮৩ বছর। মামলা চলাকালীন অবস্থায় বাদীদের মধ্যে দুইজন মারা গেলেও তাদের পরিবার লড়াই চালিয়ে যায়।
২০১৮ সালে পাঁচজন বাদী মিলে এই মামলা দায়ের করেন। ২০২২ সালে টোকিওর একটি নিম্ন আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। তবে ২০২৩ সালে টোকিও হাইকোর্ট ভিন্ন রায় দিয়ে জানায়, মামলাটি জাপানের বিচারিক এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে এবং উত্তর কোরিয়া বাদীদের অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
আইনজীবী আতসুশি শিরাকি বলেন, এই প্রথম কোনো জাপানি আদালত উত্তর কোরিয়ার অপকর্মের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করল। যদিও বাস্তবে ক্ষতিপূরণ আদায় করা কঠিন হবে, তবুও এই রায় ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে থাকবে।
logo-1-1740906910.png)