Logo
×

Follow Us

এশিয়া

মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের ‘ইকবাল সিন্ডিকেট’ ধরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৮

মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের ‘ইকবাল সিন্ডিকেট’ ধরা

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ বিশেষ অভিযানে ‘ইকবাল’ নামে পরিচিত একটি মানব পাচার চক্র ভেঙে দিয়েছে। ১৭ জানুয়ারি পরিচালিত এ অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য ও জনসাধারণের দেওয়া সূত্র কাজে লাগানো হয়।  

অভিযানটি পরিচালনা করে এন্টি-ট্রাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড এন্টি-স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস (Atipsom) এবং এন্টি-মাইগ্র্যান্ট লেবার অ্যাবিউজ (Amla) প্রতিরোধ বিভাগ। এতে সহযোগিতা করে কেলান্তান রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট টিম।  

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাহাবান জানান, অভিযানের লক্ষ্য ছিল একটি বাড়ি, যা মানব পাচারকারীরা অস্থায়ী ‘হোল্ডিং হাউস’ হিসেবে ব্যবহার করত। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা অভিবাসীদের সেখানে রাখা হতো। বাড়িটি একটি প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত ছিল, যাতে কর্তৃপক্ষের নজর এড়ানো যায়।  

অভিযানে ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও একজন নারী, বয়স ১৮ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। এছাড়া মিয়ানমারের ২৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়, যিনি ওই বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা তিন দিন আগে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তী গন্তব্যে পাঠানোর আগে পুরো অর্থপ্রদান নিশ্চিত করতে তাদের ওই বাড়িতে রাখা হয়েছিল।  

জাকারিয়া আরো জানান, স্থানীয় এক বাড়ির মালিককে খুঁজে বের করা হচ্ছে, যিনি চক্রটির সঙ্গে জড়িত থেকে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। তাকে Atipsom আইন ২০০৭-এর অধীনে তদন্ত করা হবে।  

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ‘ইকবাল’ চক্রটি ২০২৪ সালের শুরু থেকে সক্রিয়। এর মূল হোতা ইকবাল থাইল্যান্ড থেকে পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিটি অভিবাসীর কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার রিঙ্গিত আদায় করা হতো। এভাবে চক্রটি প্রায় ১৫ লাখ রিঙ্গিত আয় করেছে।  

অভিযানে জাতীয় মানব পাচার সূচক নির্দেশিকা (NGHTI 2.0) ব্যবহার করে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা হয়। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

জাকারিয়া বলেন, “কোনো ব্যক্তি, চক্র, নিয়োগকর্তা বা বাড়ির মালিক যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।” 

Logo