মাছ ধরা দেখতে চীনের ছা কান হ্রদে যাচ্ছে লাখো পর্যটক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০১
চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চি লিন প্রদেশের সোং ইউয়ান শহরে ছা কান হ্রদের শীতকালীন মাছ ধরার সংস্কৃতি এখন পর্যটনের বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। বরফে ঢাকা হ্রদে শীতকালীন মাছ ধরার মৌসুমে ধরা প্রথম মাছকে সৌভাগ্য ও শুভতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সম্প্রতি ১৯ কেজি ওজনের প্রথম মাছ লক্ষ লক্ষ দর্শকের সামনে নিলামে বিক্রি হয়, যা উৎসবের জমকালো সূচনা করে।
ছা কান হ্রদ চীনের দশটি বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদের একটি। মঙ্গোলীয় ভাষায় এর নাম “ছা কান নাও এ্যার”, অর্থাৎ “সাদা হ্রদ” বা “পবিত্র হ্রদ”। হ্রদটি মাছের প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ এবং এখানকার জাতিগত সংখ্যালঘুরা এখনে আদিম মাছ ধরার পদ্ধতি অনুসরণ করে। ২০০৮ সালে এই শীতকালীন মাছ ধরার রীতি জাতীয় অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এরপর থেকে পর্যটন সম্ভাবনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে এসে মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ করেন, তাজা মাছের ভোজে অংশ নেন এবং বরফ-তুষারের খেলায় মেতে ওঠেন।
২৪তম ছা কান হ্রদের বরফ ও তুষার মাছ ধরার সংস্কৃতি পর্যটন উৎসব সম্প্রতি নাবো স্কোয়ারে উদ্বোধন হয়। দুপুর নাগাদ বরফ ভেঙে প্রথম ঝাঁক মাছ ওঠে, বড় বড় মাছ পৃষ্ঠে লাফিয়ে পড়ায় দর্শকরা উল্লাসে মেতে ওঠেন।
১৯৭০-এর দশকে হ্রদটি প্রায় শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা জীবিকার তাগিদে হ্রদের তলদেশ থেকে ক্ষার সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। পরে আট বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তারা সোং হুয়া নদী থেকে পানি আনার জন্য একটি খাল নির্মাণ করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশগত উন্নয়ন ও জল পরিশোধন প্রকল্পের ফলে হ্রদের পানির গুণমান বেড়েছে এবং আশপাশের ছোট জেলে গ্রামটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হ্রদের ধারে মাছের রেস্তোরাঁগুলোতে ভিড় জমে যায়। ওয়াং চিয়া চি নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন। তার রেস্তোরাঁটি এখন ৯০০ বর্গমিটারের বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। অন্যদিকে তরুণ উদ্যোক্তা ছু সান মেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর গ্রামে ফিরে এসে রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরু করেন। তার রেস্তোরাঁ এখন ৫০০ জনের ধারণক্ষমতায় উন্নীত হয়েছে এবং সম্প্রতি তিনি একটি গেস্টহাউসও চালু করেছেন, যা প্রতিদিনই পূর্ণ বুকিং পাচ্ছে।
পর্যটক ওয়াং মিন ছিয়াও বলেন, “আমরা নান চিং থেকে এসেছি। সন্তানকে মাছ ধরা ও শিকারের সংস্কৃতি দেখাতে এনেছি। ঠান্ডা আবহাওয়া সত্ত্বেও অভিজ্ঞতাটি ছিল ফলপ্রসূ।” বিদেশি পর্যটকরাও আকৃষ্ট হচ্ছেন। স্পেনের ফটোগ্রাফি অনুরাগী লুইস বলেন, “বরফের হ্রদ থেকে মাছ লাফিয়ে ওঠার দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। আমি এটি ক্যামেরায় ধারণ করে পরিবারের সঙ্গে ভাগ করতে চাই”।
logo-1-1740906910.png)