মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপো থেকে ১১ জন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ২৭ জন আটক প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহজুড়ে পরিচালিত বিশেষ প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের আওতায় তাদের কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফেরত পাঠানোদের মধ্যে বাংলাদেশের ১১ জন ছাড়াও ভারতের ৭ জন, পাকিস্তানের ৫ জন এবং নেপালের ৪ জন নাগরিক রয়েছেন। ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত পাঠানো প্রবাসীদের অনেকেরই বৈধ পাসপোর্ট ছিল। তবে যাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে বা অন্যান্য আইনি জটিলতা ছিল, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসের সহযোগিতায় ‘ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ বা অস্থায়ী ভ্রমণ নথি ইস্যু করে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিমান টিকিটের ব্যয় মূলত আটক ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সঞ্চয় কিংবা তাদের পরিবারের আর্থিক সহায়তায় মেটানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোও টিকিটের খরচ বহন করেছে। পুরো প্রশাসনিক কার্যক্রম পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপোর নির্ধারিত কাউন্টার থেকে কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো প্রবাসীদের মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় সিস্টেমে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হয়েছে। এর ফলে অভিবাসন আইন অনুযায়ী তারা ভবিষ্যতে আর কখনোই মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন বিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা আইন ভঙ্গকারী প্রবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় মালয়েশিয়া সরকার।
logo-1-1740906910.png)