Logo
×

Follow Us

এশিয়া

ভারতের সাতটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন রেস্তোরাঁ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২

ভারতের সাতটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন রেস্তোরাঁ

ভারতের খাদ্যসংস্কৃতি হাজার বছরের পুরনো। তবে কিছু রেস্তোরাঁ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে আছে এবং আজও মানুষের কাছে জনপ্রিয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রেস্তোরাঁগুলো শুধু খাবার নয়, বরং ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।  

করিম’স, দিল্লি:  

১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দিল্লির জামা মসজিদের কাছে অবস্থিত Karim’s আজও মুঘল দরবারের রান্নার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। কাবাব, বিরিয়ানি ও নেহারি এখানকার প্রধান আকর্ষণ। স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে বিদেশি পর্যটক; সবাই এখানে ভিড় করেন। করিম’স শুধু খাবার নয়, বরং দিল্লির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক সাংস্কৃতিক প্রতীক।  

তুন্দে কাবাবি, লক্ষ্ণৌ:

লক্ষ্ণৌর এই রেস্তোরাঁ প্রায় ১০০ বছরের পুরনো। বিখ্যাত গালাউটি কাবাবের জন্য এটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বলা হয়, দাঁতহীন নবাবের জন্য বিশেষভাবে তৈরি হয়েছিল এই নরম কাবাব। আজও সেই রেসিপি অপরিবর্তিত রয়েছে। লক্ষ্ণৌর ঐতিহ্যবাহী আউধি খাবারের স্বাদ নিতে তুন্দে কাবাবি অনন্য।  

ইন্ডিয়া কফি হাউস, কলকাতা ও অন্যান্য শহর:  

১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়া কফি হাউস শুধু একটি ক্যাফে নয়, বরং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের শাখাটি বিশেষভাবে বিখ্যাত। এখানে লেখক, কবি, বিপ্লবী ও শিক্ষার্থীরা আড্ডা দেন। ফিল্টার কফি, কাটলেট ও অমলেটের মতো সাধারণ খাবারই এর শক্তি। আড্ডা ও আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে এটি আজও বাঙালি সংস্কৃতির অংশ।  

লিওপোল্ড ক্যাফে, মুম্বাই:

১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত লিওপোল্ড ক্যাফে মুম্বাইয়ের অন্যতম প্রাচীন রেস্তোরাঁ। ইরানি মালিকানাধীন এই ক্যাফে পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে সমান জনপ্রিয়। ২০০৮ সালের সন্ত্রাসী হামলার সময়ও এটি আলোচনায় আসে। আজও দেয়ালে সেই ঘটনার চিহ্ন রয়েছে। কন্টিনেন্টাল খাবার, কফি ও বিয়ার এখানকার প্রধান আকর্ষণ।  

ব্রিটানিয়া অ্যান্ড কোং, মুম্বাই:  

১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটানিয়া অ্যান্ড কোং ইরানি খাবারের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে বেরি পুলাও এখানকার সিগনেচার ডিশ। পুরনো আসবাব ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হয়। মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের কাছে এটি আজও প্রিয় গন্তব্য।  

ইউনাইটেড কফি হাউস, দিল্লি:  

১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড কফি হাউস দিল্লির অভিজাত সমাজের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানে ভারতীয়, ইউরোপীয় ও এশীয় খাবারের মিশ্রণ পাওয়া যায়। সুশোভিত পরিবেশ ও ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা এটিকে আলাদা করে তোলে। দিল্লির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এর বিশেষ স্থান রয়েছে।  

মাভেল্লি টিফিন রুম, বেঙ্গালুরু:

১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত MTR দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের জন্য কিংবদন্তি। ডোসা, ইডলি, সাম্বর এখানকার প্রধান আকর্ষণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চালের সংকটে তারা রাভা ইডলি তৈরি করে, যা আজও জনপ্রিয়। বেঙ্গালুরুর খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে MTR অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।  

এই রেস্তোরাঁগুলোতে গেলে মনে হয় যেন অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগ ঘটছে। খাবারের স্বাদ, পরিবেশ ও ঐতিহ্য মিলিয়ে এগুলো আজও ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির গর্ব।

Logo