জাপান ভ্রমণে গেলে অনেক বিদেশি পর্যটক অজান্তেই কিছু সামাজিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করে বসেন। নীরবতা পালন, সময়ের আগে পৌঁছানো এবং নিজের আবর্জনা নিজে বহন করা এসবই জাপানি সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়রা এগুলোকে স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে মানলেও পর্যটকদের কাছে বিষয়গুলো অনেক সময় জটিল মনে হয়।
জাপানি সমাজে ‘হারিয়ো’ নামে একটি ধারণা রয়েছে, যার অর্থ আশপাশের পরিবেশ ও অন্যের অনুভূতির প্রতি সচেতন থাকা। সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে এই ধারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বিদেশিদের কাছে এসব অলিখিত নিয়ম বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
২০২৫ সালে মার্কিন ভ্রমণবিষয়ক ম্যাগাজিন কঁদে নাস্ত ট্রাভেলারের পাঠক জরিপে জাপান ‘বিশ্বের সেরা দেশ’ নির্বাচিত হওয়ার পর টোকিওতে বসবাসরত খাদ্য ও ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ টোকিও হালফি পর্যটকদের জন্য কিছু আচরণগত পরামর্শ তুলে ধরেন।
জাপানে সময়নিষ্ঠা শুধু ভদ্রতা নয়, এটি দায়িত্ববোধ। নির্ধারিত সময়ের আগে ৫-১০ মিনিট উপস্থিত হওয়াকে এখানে শালীনতা হিসেবে দেখা হয়। দেরি করাকে অসম্মানজনক মনে করা হয়। একইভাবে নীরবতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেন, বাস বা রেস্তোরাঁয় উচ্চস্বরে কথা বলা অনুচিত। শান্ত কণ্ঠে কথা বলা অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ।
‘মোত্তাইনাই’ সংস্কৃতি জাপানি জীবনের আরেকটি মূল দর্শন। এর অর্থ অপচয় না করা। খাবার, সময় বা পরিশ্রম কোনো কিছুই যেন নষ্ট না হয়। খাবারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্ডার না করা এবং প্রতিটি খাবারের পেছনের শ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এই সংস্কৃতির অংশ।
খাবারের টেবিলে শালীনতা বজায় রাখাও জরুরি। ছবি তোলার আগে শেফের অনুমতি নেওয়া, টেবিলে মোবাইল বা ব্যাগ না রাখা, খাবার ঠান্ডা হওয়ার আগেই ছবি তোলা এসবই শালীনতার অংশ। পানীয়তে ‘চিয়ার্স’ করার সময় গ্লাসে গ্লাস না ঠোকানো এবং তীব্র সুগন্ধি ব্যবহার এড়িয়ে চলাও শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত।
গণপরিবহনে নীরবতা বজায় রাখা, ফোন সাইলেন্ট রাখা এবং লাইনে দাঁড়ানোর নিয়ম মেনে চলা জাপানিদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসকেলেটরে টোকিওতে বাঁ পাশে দাঁড়ানো হয়, আর ওসাকায় ডান পাশে। স্থানীয়দের দেখে অনুসরণ করাই সবচেয়ে ভালো।
জাপানের রাস্তাঘাট পরিষ্কার হলেও সেখানে ডাস্টবিন খুব কম। তাই মানুষ নিজের আবর্জনা নিজে বহন করে নির্দিষ্ট জায়গায় ভাগ করে ফেলে। ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মানও জাপানি সংস্কৃতির বড় অংশ। অপরিচিত কাউকে জড়িয়ে ধরা বা স্পর্শ করা অস্বস্তিকর হতে পারে। করমর্দনের বদলে হালকা নত হয়ে অভিবাদন জানানোই প্রচলিত।
ট্রাফিক আইন মানা জাপানিদের সামাজিক দায়িত্বের অংশ। খালি রাস্তা হলেও তারা সবুজ সংকেত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। একইভাবে কথার আড়ালের অর্থ বোঝাও জরুরি। জাপানিরা সাধারণত সরাসরি ‘না’ বলেন না। বরং ‘কঠিন হবে’ বা ‘পরে দেখা যাবে’ এ ধরনের কথার আড়ালে ভদ্রভাবে প্রত্যাখ্যান লুকিয়ে থাকে।
logo-1-1740906910.png)