২০২৬ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক পারমিটে বড় পরিবর্তন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩২
সিঙ্গাপুরে বিদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় আসছে বড় পরিবর্তন। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় (MOM) জানিয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এতে কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম আরো কঠোর হচ্ছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য হলো দক্ষ কর্মীদের সুযোগ বাড়ানো এবং অপব্যবহার কমানো।
ওয়ার্ক পারমিট হলো এমন একটি অনুমতি, যার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীরা নির্মাণ, উৎপাদন, শিপইয়ার্ড, সার্ভিস ও প্রসেস শিল্পে কাজ করতে পারেন। এটি S Pass বা Employment Pass-এর মতো নয়; বরং এতে নির্দিষ্ট কোটা, লেভি ও বয়সসীমা থাকে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে বিনোদন খাতে। ১ জুন ২০২৬ থেকে পারফরমিং আর্টিস্ট স্কিমে নতুন ওয়ার্ক পারমিট আর দেওয়া হবে না। বার, নাইট ক্লাব ও হোটেলগুলোতে স্বল্পমেয়াদি কর্মী নিয়োগে এ স্কিম ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বারবার অপব্যবহার হওয়ায় সরকার এটি বন্ধ করছে।
নতুন নিয়মে বেশির ভাগ খাতে আর নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ চাকরির মেয়াদ থাকবে না। যোগ্যতা পূরণ করলে এবং কোটা ও লেভি মেনে চললে ওয়ার্ক পারমিট অনির্দিষ্টকাল নবায়ন করা যাবে।
বয়সসীমাও বাড়ানো হয়েছে
- সর্বোচ্চ চাকরির বয়স হবে ৬৩ বছর
- নতুন আবেদনকারীদের নিয়োগ দেওয়া যাবে ৬১ বছর বয়স পর্যন্ত
এতে অভিজ্ঞ কর্মীরা দীর্ঘ সময় কাজ করার সুযোগ পাবেন।
তবে সব খাতে নিয়ম শিথিল হয়নি। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সার্ভিস খাতে কম দক্ষ কর্মীদের জন্য কোটা আরো কঠোর হবে এবং লেভি বাড়ানো হবে। এর উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় কর্মীদের উৎসাহিত করা এবং কম দক্ষ বিদেশি শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমানো।
কর্মীদের জন্য এটি সুখবর। তারা দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারবেন এবং বয়সসীমা বেড়েছে। অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদের জন্য এটি স্থিতিশীলতা আনবে, তবে খরচ পরিকল্পনায় আরো সতর্ক হতে হবে।
সিঙ্গাপুর স্পষ্ট করেছে, তারা টেকসই বিদেশি শ্রমশক্তি চায়। দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়ানো হবে, কিন্তু অপব্যবহার ঠেকাতে নজরদারি আরো কঠোর হবে। তাই ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম মানতে হলে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়কেই নিয়মিতভাবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তথ্য যাচাই করতে হবে।
logo-1-1740906910.png)