Logo
×

Follow Us

এশিয়া

জাপানে প্রবাসী কর্মী নিয়োগে নীতি পরিবর্তন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৫০

জাপানে প্রবাসী কর্মী নিয়োগে নীতি পরিবর্তন

জাপান আগামী ২০২৭ থেকে তাদের বিদেশি শ্রমিক নীতি পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। দেশটি নতুন দক্ষতা ভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রোগ্রাম চালু করবে, যা বর্তমান টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামের জায়গায় আসবে। নতুন নীতির আওতায় প্রথম দুই বছরে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২৬ হাজার পর্যন্ত সীমিত রাখা হবে। ইকোনমিক টাইমস এই সংবাদ প্রকাশ করেছে।

এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দিকের ভারসাম্য রাখা। একদিকে জাপান দীর্ঘমেয়াদি শ্রম সংকটের মুখোমুখি, কারণ দেশটির জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হচ্ছে। অন্যদিকে, বিদেশি কর্মী বাড়ার কারণে জনমনে উদ্বেগও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে নীতি পুনর্বিবেচনা করে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা করা যায়।

নতুন প্রোগ্রামে বিদেশি কর্মীদের দক্ষতাভিত্তিক অবস্থায় উন্নীত করা হবে। তারা তিন বছর কাজ করার পর ‘স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার’ হিসেবে নতুন ভিসা পাবেন, যার মাধ্যমে তারা জাপানে আরো দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারবেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রামের আওতায় প্রায় ৮ লাখ ৫ হাজার কর্মী নেওয়া হবে।

নতুন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম ১৭টি খাতে প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে কৃষি ও নির্মাণ খাত অন্তর্ভুক্ত। এই ভিসা ব্যবস্থায় দুই ধরনের ভিসা থাকবে। প্রথম ভিসায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর থাকা যাবে। দ্বিতীয় ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য নবায়নযোগ্য এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয়। প্রথমটি তুলনামূলক অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য, আর দ্বিতীয়টি বিশেষ দক্ষ কর্মীদের জন্য।

সম্পর্কিত খসড়া পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান ও নতুন ব্যবস্থার মিলিত আওতায় মোট প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী জাপানে কাজ করতে পারবেন। সরকারের আশা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা উন্নত করলে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতিতে বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দক্ষ ও দীর্ঘমেয়াদি শ্রমিক ধরে রাখার সুযোগও থাকবে। এতে জাপানে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশিদের জন্য সুযোগ বাড়বে, তবে নিয়ম ও কাঠামো আগের চেয়ে বেশি শক্ত হবে।

Logo