ভিয়েতনামে তৈরি হচ্ছে প্রথম পাঁচতারকা মানের বিমানবন্দর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৩
ভিয়েতনামের জাতীয় সংসদ সম্প্রতি ৭.৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি বিমান প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় গিয়া বিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Gia Binh International Airport) তৈরি হবে, যা দেশটির প্রথম পাঁচতারকা সবুজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত হবে এবং বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিমানবন্দরের মধ্যে স্থান পেতে পারে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাস্টারাইজ গ্রুপ (Masterise Group) এই প্রকল্পের উদ্যোগী। বিমানবন্দরটি উত্তর ভিয়েতনামের বাক নিন প্রদেশে ৪ লাখ ৬০ হাজার বর্গমিটার জায়গায় তৈরি হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্প সম্পন্ন হবে। প্রকল্পে ৫ হাজার ৯০০ বর্গমিটার বিশিষ্ট ভিআইপি টার্মিনাল, আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং অন্যান্য সহায়ক সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৯৬.৪ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং (৭.৪ বিলিয়ন ডলার)। প্রকল্পটি ৭০ বছরের জন্য কার্যকর হবে এবং দুটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম পর্যায়ে ২০২৫ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত প্রায় ৫.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে এবং বাকি অংশ ২০৩১-২০৫০ সালে শেষ হবে।
গিয়া বিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ICAO 4F মান অনুযায়ী তৈরি করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি প্রতি বছর প্রায় ৩০ মিলিয়ন যাত্রী এবং ১.৬ মিলিয়ন টন কার্গো পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে যাত্রী সংখ্যা ৫০ মিলিয়ন এবং কার্গো ২.৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির লক্ষ্য Skytrax-এর পাঁচতারকা সার্টিফিকেশন অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবার গুণগত মান (Airports Council International Airport Service Quality) অনুযায়ী উচ্চ যাত্রী সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা। গিয়া বিনকে লন্ডন ও টোকিওর মতো টুইন-হাব মডেলের অধীনে পরিচালনা করা হবে, যা হানোইর নোই বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চাপ কমাবে এবং উত্তরাঞ্চলের বিমান পরিবহন সক্ষমতা বাড়াবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিমানবন্দর হানোই এবং উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে, লজিস্টিকস, ই-কমার্স, পর্যটন এবং অন্যান্য উচ্চমানের সেবা খাতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
জাতীয় সংসদে আলোচনায় উল্লিখিত হয়, বিমানবন্দর শুধু বেসামরিক বিমান পরিবহনের জন্য নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ২০২৭ সালের APEC শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতিতেও এ বিমানবন্দর ব্যবহৃত হবে।
সরকার প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ নীতি এবং যন্ত্রনা প্রবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, জমি উদ্ধার, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান স্থানান্তর, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।
মাস্টারাইজ গ্রুপ ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং এটি উচ্চমানের আবাসন, নগর উন্নয়ন, বিলাসবহুল আতিথ্য ও বাণিজ্যিক স্থাপনা পরিচালনা করে আসছে।
logo-1-1740906910.png)