Logo
×

Follow Us

এশিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষা নীতি ঘোষণা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৪

দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষা নীতি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণ এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবারের শিক্ষার্থীদের সহায়তা জোরদার করতে নতুন শিক্ষা নীতিমালা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। ১২ ডিসেম্বর দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্যাকেজ উন্মোচন করে। এর লক্ষ্য কোরিয়ান ভাষায় দক্ষতা বাড়ানো, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক করা এবং ক্রমবর্ধমান অ-কোরিয়ানভাষী শিক্ষার্থীদের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানো।

এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কোরিয়ান ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের মান পরীক্ষা ‘টেস্ট অব প্রোফিসিয়েন্সি ইন কোরিয়ান’ বা টপিক (TOPIK)-এর বড় ধরনের সংস্কার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে টপিক পুরোপুরি ডিজিটাল করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় এই পরীক্ষা কম্পিউটারভিত্তিক হবে এবং পরীক্ষার্থীরা ঘরে বসেই রিমোট পদ্ধতিতে অংশ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক গ্রেডিং সিস্টেম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

টপিক পরীক্ষা দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, স্কলারশিপ আবেদন এবং চাকরির ক্ষেত্রে বিদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কোরিয়ান সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং কোরিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার কারণে টপিক পরীক্ষার চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

টপিক সংস্কারের পাশাপাশি বিদেশে কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণেও জোর দিচ্ছে সরকার। ২০২৬ সালের মধ্যে বিদেশি স্কুলে সরকার-নিযুক্ত কোরিয়ান ভাষা শিক্ষকের সংখ্যা ৭৭ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০-তে নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোরিয়ান ভাষায় কথোপকথন ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা সহায়তার জন্য ২০ জন টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে ৪৭টি দেশের ২ হাজার ৭৭৭টি স্কুলে কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।

এছাড়া ২০২৬ সালের মধ্যে ১০টি দেশে ২ লাখ ৬০ হাজার কপি কোরিয়ান ভাষার পাঠ্যবই সরবরাহ করা হবে। অনলাইন পাঠ্যবই ও ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ১৮টি দেশের স্থানীয় কোরিয়ান ভাষা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য কোরিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হবে। সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরো বেশি শিক্ষার্থীকে কোরিয়ায় পড়াশোনা ও চাকরিতে আগ্রহী করবে।

দেশের ভেতরেও আন্তর্জাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এআইভিত্তিক কোরিয়ান ভাষা শেখার মডিউল, অতিরিক্ত স্কুল-পরবর্তী ও ছুটির দিনের ক্লাস এবং শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী নতুন ভাষা দক্ষতা মূল্যায়ন পদ্ধতি। শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত সাধারণ কোরিয়ান শব্দের তালিকাও শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে, যাতে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।

এই নীতির পেছনে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় ধরনের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন। ২০২৪ সালে দেশটিতে বহুসাংস্কৃতিক পরিবারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালে কোরিয়ান স্কুলগুলোতে বহুসাংস্কৃতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ। পাশাপাশি নিবন্ধিত বিদেশির সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ।

এদিকে ২০৪০ সালের মধ্যে স্কুলগামী কোরিয়ান শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসবে বলে ধারণা করছে সরকার। এ বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে অভিবাসন নীতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে পড়াশোনা করা বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য স্থায়ী বসবাসের (এফ-৫ ভিসা) সময়সীমা ছয় বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যদি তারা সরকার নির্ধারিত ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটিতে পড়াশোনা করেন।

শিক্ষামন্ত্রী চোই কিও-জিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির মধ্যে যৌথ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এই নীতিগুলোর মূল লক্ষ্য।

Logo