মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন: জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৬
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত শোষণ, প্রতারণা এবং ঋণ-দাসত্বের শিকার হচ্ছেন। তারা এ পরিস্থিতিকে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বৈধ কাজের অনুমতি রয়েছে এমন বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ৮ লাখের বেশি। এটি দেশটিতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ। জাতিসংঘের তথ্যমতে, হাজার হাজার শ্রমিক বাংলাদেশে আটকে আছেন বা মালয়েশিয়ায় গিয়ে শোষণের শিকার হচ্ছেন। অনেক শ্রমিককে নিয়োগ ফি হিসেবে সরকারি নির্ধারিত হারের পাঁচ গুণ পর্যন্ত অর্থ দিতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার অনেক নিয়োগকর্তা শ্রমিকদের পাসপোর্ট জব্দ করে রাখে। চাকরির ভুয়া প্রতিশ্রুতি, চুক্তি ও বাস্তব কর্মপরিসরের মধ্যে অমিল এবং সরকারি সংস্থার সহায়তার অভাবও সাধারণ ঘটনা। ফলে শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করছেন।
যেসব শ্রমিকের সঠিক কাগজপত্র নেই তারা গ্রেপ্তার, আটক, নির্যাতন ও নির্বাসনের ঝুঁকিতে থাকেন। মালয়েশিয়ার কঠোর অভিবাসন আইন অনিয়মিত প্রবেশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। দেশটিতে নিয়মিত অভিবাসন অভিযান চালানো হয় এবং বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার অভিবাসী, শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীকে আটক রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়ার কিছু কারখানার বিরুদ্ধে আমদানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৭ সাল থেকে নতুন আইন কার্যকর করবে, যেখানে জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের ঋণ-দাসত্ব ও প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা এসব নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি আরো বাড়াতে পারে।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারসহ শ্রমিক প্রেরণ ও গ্রহণকারী দেশগুলো এবং ক্রেতা দেশগুলোর দায়িত্ব রয়েছে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার। তারা দ্রুত তদন্ত, প্রতিকার এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।
আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন মালয়েশিয়া থেকে পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ফেয়ার লেবার অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্বশীল নিয়োগ নির্দেশিকা অনুসরণ করেন। এতে নিয়োগ ব্যয়কে ক্রয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং শ্রমিকদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াকে অবশ্যই শ্রমিকদের প্রতি নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব দেশের অর্থনীতি অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরও উচিত শোষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। অন্যথায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি আরো বাড়বে এবং হাজারো শ্রমিকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
logo-1-1740906910.png)