ইন্দোনেশিয়ার বাতামে মানব পাচারের শিকার ২৩ জন শ্রমিক উদ্ধার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৪
ইন্দোনেশিয়ার বাতাম শহরে মানব পাচার বিরোধী অভিযানে ২৩ জন অভিবাসী শ্রমিককে উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালে পরিচালিত এ অভিযানে মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের বেশির ভাগই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। তাদের অবৈধভাবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাতামে আনা হয়েছিল। পরে তারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন এবং প্রতারণার মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছিল।
বাতাম পুলিশ জানিয়েছে, মানব পাচার চক্রটি শ্রমিকদের বিদেশে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিল। অনেক শ্রমিক পরিবার থেকে ঋণ নিয়ে বা সম্পদ বিক্রি করে এ অর্থ জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের প্রতিশ্রুত চাকরি দেওয়া হয়নি। বরং তারা অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের চিকিৎসা, খাবার এবং আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
২০২৫ সালে বাতামে মানব পাচার বিরোধী অভিযানে এটি অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মানব পাচার একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা এবং এটি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জরুরি। ইন্দোনেশিয়া সরকার ইতোমধ্যেই মানব পাচার প্রতিরোধে আইন ও নীতি কঠোর করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অভিবাসী শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তারা চাকরির আশায় বিদেশে যায়, কিন্তু অনেক সময় প্রতারণার শিকার হয়। তাই শ্রমিকদের সুরক্ষায় সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বাতাম শহরটি দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের হটস্পট হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক অবস্থান ও সমুদ্রপথে সহজ যোগাযোগের কারণে পাচারকারীরা এ অঞ্চলকে ব্যবহার করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক অভিযানে প্রমাণ হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানব পাচার দমনে আরো সক্রিয় হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক পরিবেশে কাজ করছিলেন। পর্যাপ্ত খাবার, বিশ্রাম বা চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অনেককে জোর করে কাজ করানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, সরকারের সহায়তায় তারা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন।
সব মিলিয়ে বাতামে মানব পাচার বিরোধী অভিযানে ২৩ জন অভিবাসী শ্রমিকের উদ্ধার আন্তর্জাতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, মানব পাচার প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভুক্তভোগীদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
logo-1-1740906910.png)