থাইল্যান্ডে চীনা অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত একটি ভুয়া নাগরিকত্ব প্রদানকারী গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা, দালাল, বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২৮ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যাংকক পোস্ট এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
যৌথভাবে পাঁচটি সরকারি সংস্থা এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ভুয়া স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রদানকারী একটি নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়। এ নেটওয়ার্ককে “গ্রে চায়নিজ সিন্ডিকেট” নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল চিয়াং মাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অভিযানে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া নাগরিকত্বের মাধ্যমে বিদেশিদের অবৈধভাবে বসবাস ও ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছিল।
অভিযানে দেখা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্তে এক জেলা প্রধানও আত্মসমর্পণ করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুয়া নাগরিকত্বের মাধ্যমে বিদেশি অপরাধচক্র থাইল্যান্ডে অবৈধ ব্যবসা, অর্থপাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, এই ধরনের অপরাধ শুধু জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। ভুয়া নাগরিকত্বের মাধ্যমে অপরাধীরা বৈধ নাগরিকের মতো সুবিধা ভোগ করছিল এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে চলছিল।
অভিযানের পর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুয়া নাগরিকত্ব প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় থাইল্যান্ডে বিদেশি অপরাধচক্রের প্রভাব আবারো সামনে এসেছে। বিশেষ করে চীনা সিন্ডিকেটগুলোকে কেন্দ্র করে দেশটিতে অবৈধ ব্যবসা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে আরো কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
logo-1-1740906910.png)