সাইবার অপরাধ দমনে জাতীয় অভিযানের অংশ হিসেবে বিদেশি অপরাধীদের ঠেকাতে ভিসা যাচাই-বাছাই আরো কঠোর করেছে থাইল্যান্ডের ইমিগ্রেশন ব্যুরো। ব্যাংকক পোস্ট এ সংবাদটি প্রকাশ করে।
সংস্থাটির মুখপাত্র পুলিশ কর্মকর্তা চেয়ংরন রিম্পাদি জানান, প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতীয় পুলিশপ্রধান কিত্থারাত পুনপেচ-এর নির্দেশনায় এই কড়াকড়ি চালু করা হয়েছে। গত ১২ নভেম্বর ইমিগ্রেশন ব্যুরোর প্রধান পুলিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল পানুমাস বুনিয়ালুগ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে বিদেশিদের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধার অপব্যবহার রোধে নীতি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।
থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটনের অজুহাতে বারবার দেশটিতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী বিদেশিদের এখন থেকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। অনেকেই ভিসামুক্ত প্রবেশ নীতিকে ‘ভিসা রান’-এর মাধ্যমে ব্যবহার করে আসছিলেন। অর্থাৎ, ভিসা শেষ হওয়ার আগেই সীমান্ত পার হয়ে আবার প্রবেশ করে নতুন অনুমতি নেওয়া হতো।
পাতায়া, ফুকেট ও হুয়া হিনের মতো প্রবাসী-ঘন এলাকায় এভাবে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া ‘প্যাকেজ ট্রিপ’ ব্যবসা গড়ে উঠেছে। এতে দ্রুত ভিসা নবায়ন করা সম্ভব হলেও অপরাধ চক্রও সুযোগ নিয়েছে। কেউ অনলাইন প্রতারণা, কেউ অর্থ পাচার, আবার কেউ অনুমতিহীন ব্যবসায় জড়িয়েছে।
এই ফাঁক বন্ধে বিমানবন্দর ও স্থলসীমান্তের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলো এখন থেকে কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া দুবারের বেশি ভিসা রান করা যাত্রীদের প্রবেশে বাধা দেবে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯০০ জনকে ভিসা সুবিধার অপব্যবহারের কারণে থাইল্যান্ডে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকক পোস্ট।
থাইল্যান্ড প্রশাসন বলছে, দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় এই পদক্ষেপ জরুরি। প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন ভিসার শর্ত মেনে চলেন এবং আইনকে সম্মান করেন।
logo-1-1740906910.png)