সিঙ্গাপুরে অভিবাসী শ্রমিকদের ঘিরে সংকট আরো গভীর হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিয়োগ ফি বেড়ে যাওয়ায় শহরটির নিম্ন আয়ের বিদেশি কর্মীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ‘দ্য বিজনেস টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই পরিস্থিতি সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ও জনশক্তি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের জনসংখ্যা ৬.১১ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যার বড় অংশই ওয়ার্ক পারমিটধারী অভিবাসী শ্রমিক। নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে এসব শ্রমিকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য নেই।
বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক নাসির উদ্দিন জানান, আগে ৬-৭ সিঙ্গাপুর ডলারে খাবার কিনতে পারলেও এখন একই খাবারের জন্য ১০ ডলার গুনতে হয়। অথচ তার আয় বাড়েনি তেমনভাবে। নিয়োগ ফি, বাসস্থান, খাবার ও অন্যান্য খরচ মিলে মাস শেষে হাতে কিছুই থাকে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের গড় বেতন ১৪% বেড়েছে। কিন্তু এই বৃদ্ধিও জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিয়োগ সংক্রান্ত অতিরিক্ত খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন
- স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া
- ন্যায্য মজুরি
- প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার
- বিদেশি কর্মী লেভি পুনর্বিন্যাস করে তাদের কল্যাণে ব্যয় করা
সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই নির্ভরতা টেকসই হবে না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, শ্রমিকদের প্রতি অবহেলা ভবিষ্যতে জনশক্তি সংকট ও সামাজিক অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।
এই সংকট সিঙ্গাপুরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মানবিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করাই হতে পারে টেকসই সমাধানের পথ।
তথ্যসূত্র: বিজনেস টাইমস সিঙ্গাপুর
logo-1-1740906910.png)