Logo
×

Follow Us

আফ্রিকা

আফ্রিকায় দারিদ্র্য-ক্ষুধা-যুদ্ধ: লক্ষ মানুষের উদ্বাস্তু জীবন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৭

আফ্রিকায় দারিদ্র্য-ক্ষুধা-যুদ্ধ: লক্ষ মানুষের উদ্বাস্তু জীবন

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ লক্ষ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নিরাপত্তা ও জীবিকার খোঁজে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। সংঘাত ও দারিদ্র্যের এই দ্বৈত সংকট মহাদেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় শরণার্থী উৎপাদনকারী অঞ্চলে পরিণত করেছে।

কঙ্গোর কাশুঙ্গা দাদি ও জামদা মুসার পরিবার তারই এক উদাহরণ। সংঘাতের কারণে তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়, সবকিছু লুট হয়ে যায়। আট সন্তান নিয়ে তারা পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন বুরুন্ডির ন্যাঙ্কান্ডা শরণার্থী শিবিরে। সেখানে খাবার ও আশ্রয় পেলেও দারিদ্র্য তাদের পিছু ছাড়েনি। পরে স্থানীয় গির্জা ও বিশ্ব রিলিফের সহায়তায় তারা সঞ্চয় কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে ছোট ব্যবসা শুরু করেন। এতে পরিবারে কিছুটা স্থিতি আসে। কিন্তু তাদের মতো হাজারো পরিবার এখনো প্রতিদিন বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত।

অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকার আলজেরিয়ায় গত সপ্তাহে ২২৩ জন অভিবাসীকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করার সময় আটক করেছে কোস্টগার্ড। একই সময়ে আরো ২১১ জনকে দেশের ভেতরে আটক করা হয়। সরকার জানিয়েছে, অবৈধ সমুদ্রযাত্রা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বেশিরভাগ অভিবাসী স্পেনের দিকে যাত্রা করে, কেউ কেউ ইতালির সার্ডিনিয়া পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

পশ্চিম আফ্রিকার মরিতানিয়ায় কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছে ৩১৫ জন অভিবাসীকে। গাম্বিয়া থেকে আসা নৌকাটিতে নারী, শিশু ও নবজাতকও ছিল। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৯১ জন সেনেগালের নাগরিক, ১২০ জন গাম্বিয়ান এবং একজন মালির নাগরিক ছিলেন। তারা সবাই কঠিন মানবিক পরিস্থিতিতে ছিলেন। মরিতানিয়া দীর্ঘদিন ধরেই সাব-সাহারান আফ্রিকার অভিবাসীদের জন্য ইউরোপে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট।

আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও একই চিত্র। সুদানে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষে লক্ষ মানুষ দক্ষিণ সুদান ও চাদে পালিয়ে যাচ্ছে। সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ায় খরা ও সংঘাত মিলিয়ে মানুষকে উদ্বাস্তুতে পরিণত করছে। সাহেল অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় পরিবারগুলো দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলছে, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে চলমান সংকটে লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু এসব শিবিরে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও চিকিৎসা নেই। ফলে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা তাদের জীবনে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে।

যুদ্ধ ও সংঘাত শুধু নিরাপত্তা কেড়ে নেয় না, বরং দারিদ্র্যকে আরো গভীর করে। কাশুঙ্গা ও জামদার মতো পরিবারগুলো কিছুটা সহায়তা পেয়ে এগিয়ে যেতে পারলেও মহাদেশজুড়ে লক্ষ মানুষ এখনো প্রতিদিন বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

Logo