Logo
×

Follow Us

আফ্রিকা

প্রাণভয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ছেন অভিবাসীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:২২

প্রাণভয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ছেন অভিবাসীরা

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী মনোভাব নতুন মাত্রা পেয়েছে। নথিবিহীন অভিবাসীদের দেশ ছাড়তে আল্টিমেটাম দেওয়া হচ্ছে, আর সেই হুমকির মুখে মালাউই, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক ও অন্যান্য আফ্রিকান দেশের নাগরিকরা প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ছেন। জোহানেসবার্গের উপকণ্ঠে বসবাসরত মালাউই নাগরিক নিয়ারেন্ডাকে সরাসরি বলা হয়েছে, “এখনই চলে যাও, নয়তো কফিনে ফিরতে হবে।”

গত কয়েক মাস ধরে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ আন্দোলন এবং ‘অপারেশন দুদুলা’ নামের গোষ্ঠীগুলো অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা দাবি করছে, বিদেশিরা দক্ষিণ আফ্রিকানদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে, অপরাধ বাড়াচ্ছে এবং জনসেবার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ৩০ জুনের মধ্যে নথিবিহীন অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার দাবি জানানো হয়েছে।

কেপটাউন ও জোহানেসবার্গে বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জিম্বাবুয়ের কনস্যুলেটের বাইরে শত শত অভিবাসী জড়ো হয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশিদের ওপর হামলা সরকার বরদাস্ত করবে না। তিনি এটিকে ‘সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর’ উসকানি বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে বাস্তবে সহিংসতা বাড়ছে। মে মাসে মোসেল বে এলাকায় দুই মোজাম্বিকান নিহত হন, ৫০টিরও বেশি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ডারবানের কাছে এক মালাউই নাগরিক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শত শত অভিবাসী গির্জা ও মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন।

অপারেশন দুদুলা গোষ্ঠী বিদেশিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করছে, রাস্তায় পরিচয়পত্র যাচাই করছে এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা দিচ্ছে। এর অন্যতম মুখ এনকোসিখোনা এনদাবানদাবা, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো অনুসারী নিয়ে অভিবাসীদের বিতাড়নের ডাক দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, ৩০ জুনের ডেডলাইন তারই পরিকল্পনা।

দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ১৩ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিককে হয় দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে অথবা বিতাড়িত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ বেকারত্ব, অপরাধপ্রবণতা এবং ‘আপার্টহাইট’ আমলের বৈষম্য এখনো সমাজে গভীর ক্ষোভ তৈরি করছে। সেই ক্ষোভের বলি হচ্ছেন দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসীরা। ধনী বিদেশি বা শ্বেতাঙ্গরা খুব কমই এর শিকার হন।

২০০৮ সালের ভয়াবহ দাঙ্গায় ৬২ জন নিহত হয়েছিলেন, ২০১৫ ও ২০১৯ সালেও প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। বর্তমান উত্তেজনা সেই পুরোনো সহিংসতার চক্রকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

Logo