লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির তাজুরা এলাকায় মানব পাচারের জন্য নৌকা নির্মাণ ও সরঞ্জাম সরবরাহকারী একটি গোপন কারখানা ভেঙে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অনিয়মিত অভিবাসনবিরোধী সংস্থার তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ বিভাগের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জায়গাটিকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য নৌকা প্রস্তুতকারক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর অনিয়মিত অভিবাসনবিরোধী প্রসিকিউশন অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে তল্লাশি চালায়। অভিযানে কয়েকজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পাচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার মতো নৌকা নির্মাণের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়।
তদন্ত সংস্থার দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজনরা অভিযোগ স্বীকার করেছে। মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশন অফিসে পাঠানো হয়েছে এবং একজন সরকারি কৌঁসুলি তাদের হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জব্দ করা সব সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলাকালীন কারখানাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে।
মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ার সঙ্গে কাজ করছে। ২০১৫ সাল থেকে দেশটিকে প্রায় ৭০ কোটি ইউরো (৮২৪ মিলিয়ন ডলার) দেওয়া হয়েছে, যার বড় অংশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে লিবিয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
ত্রিপোলির এই অভিযানকে মানব পাচার রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরে নৌকা নির্মাণ ও পাচারকারীদের কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
logo-1-1740906910.png)