Logo
×

Follow Us

আফ্রিকা

লিবিয়ায় বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ১২০ অভিবাসী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:২৪

লিবিয়ায় বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ১২০ অভিবাসী

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর আজদাবিয়ায় মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ অভিযানে বাংলাদেশিসহ মোট ১২০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারের কাজে ব্যবহৃত ছয়টি নৌকা জব্দ এবং বেশ কয়েকটি গোপন আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে।

আজদাবিয়া সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত দুই সপ্তাহ ধরে পরিচালিত তদন্ত ও অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নারী ও পুরুষ অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছিল এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চলছিল।

সম্প্রতি পূর্ব লিবিয়ার বিশর উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রতীরে তিনটি মরদেহ এবং একটি নৌকা উদ্ধার হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া নৌকায় নয়টি পাসপোর্ট পাওয়া যায়, যার মধ্যে চারটি বাংলাদেশি এবং পাঁচটি মিশরীয় নাগরিকের। পরে স্থানীয় পুলিশ এক মিশরীয় নাগরিককে আটক করে, যিনি জানান তিনি মানব পাচারকারীদের আস্তানা থেকে পালিয়ে এসেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, আটক অভিবাসীদের ইউরোপে পাঠানোর জন্য রাতে সমুদ্রপথে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।

তিনি আরো জানান, উদ্ধার হওয়া তিনটি মরদেহের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি এবং একজন মিশরীয় নাগরিক ছিলেন।

আজদাবিয়া সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট ও বিশর পুলিশ স্টেশন যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ দিন ধরে নজরদারির পর ১২০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে। অভিযানে ছয়টি নৌকা জব্দ করা হয়, যার মধ্যে তিনটি নির্মাণাধীন ছিল। এছাড়া একটি পূর্ণাঙ্গ নৌকা তৈরির কারখানা শনাক্ত করা হয়, যেখানে কাঠমিস্ত্রির সরঞ্জাম ও নৌকা তৈরির উপকরণ পাওয়া যায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ব ও পশ্চিম বিশর এলাকায় একাধিক মানব পাচার কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

লিবিয়ায় ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশটিতে পূর্ব ও পশ্চিমে দুটি প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থা ও অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে মানব পাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে লিবিয়া থেকে ইউরোপে কয়েকটি অভিবাসন রুট তৈরি হয়েছে; যেমন- ত্রিপোলি থেকে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপে এবং তবরুক থেকে গ্রিসের দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে অভিবাসীরা।

Logo