বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি তহবিল দেশের অর্থনীতিতে আনার লক্ষ্যে মরিশাস সরকার নতুন ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচি চালু করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর অন্তত ১০০ জন ধনী ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটি।
সরকার জানিয়েছে, গোল্ডেন ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীকে মরিশাসে আসার ১২ মাসের মধ্যে অন্তত ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগুলাম সংসদে জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে বহু ধনী ব্যক্তি পরিবার-সহ মরিশাসে বসবাসে আগ্রহ দেখানোর পরেই এই কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য শুধু অর্থ জমা রাখা নয়, বরং সেই অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ফিনটেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বায়োটেকনোলজি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতে। এসব খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে মরিশাস নিজেদের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে চায়।
বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করতে মরিশাস এখন আমেরিকার মতো দেশের পথ অনুসরণ করছে। যদিও ইউরোপের একাধিক দেশ সম্প্রতি গোল্ডেন ভিসা প্রকল্পে কড়াকড়ি শুরু করেছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প সমাজে বৈষম্য বাড়ায় এবং অর্থ পাচার বা অপরাধমূলক আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকি তৈরি করে।
তবে মরিশাস সরকার জানিয়েছে, এসব ঝুঁকি এড়াতে শক্তিশালী যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রামগুলাম বলেছেন, অর্থ পাচার বা বেআইনি আর্থিক লেনদেন ঠেকাতে ঝুঁকিভিত্তিক কঠোর যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেছেন, গোল্ডেন ভিসাধারীদের কারণে স্থানীয় আবাসন বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না। কারণ প্রথম দিকে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট হোটেল ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আবাসন ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে।
মরিশাস আগে থেকেই ধনী ব্যক্তিদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য। আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি, সমুদ্রতট সংলগ্ন বিলাসবহুল ভিলা এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ থাকায় বহু ধনী ব্যক্তি দেশটিকে বসবাসের জন্য বেছে নেন। নতুন গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি মরিশাসকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আশা করছে সরকার।
logo-1-1740906910.png)