সিডনিতে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চূড়ান্ত, থাকছে প্রথমবারের মতো বিপিএ অ্যাওয়ার্ড
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫৯
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) আয়োজিত এবারের উৎসবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সাবেক নেতাদের সম্মাননা, প্রথমবারের মতো ‘বিপিএ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান এবং বিশেষ পূজা ম্যাগাজিন ‘অঞ্জলি’ প্রকাশ।
সংগঠনটির ৩২ বছরের পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে এবারের আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অতীতের নেতৃত্ব, কমিউনিটির অবদান এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির সংযোগকে। ইতোমধ্যে বিপিএর উদ্যোগে দশম মহালয়া অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ সাজানো, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও অতিথি আপ্যায়নসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ প্রথমবারের মতো ‘বিপিএ অ্যাওয়ার্ড’ চালু করা। কমিউনিটির উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও মানবকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিতে এ পুরস্কার প্রবর্তন করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি বিপিএর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সম্মাননা জানানো হবে।
সাংস্কৃতিক আয়োজনে সিডনির জনপ্রিয় ধূমকেতু ব্যান্ডের পাশাপাশি অংশ নেবেন স্থানীয় শিল্পীরা। এছাড়া থাকছে র্যাফেল ড্র ও আকর্ষণীয় পুরস্কার।
উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে বিপিএর বিশেষ পূজা ম্যাগাজিন ‘অঞ্জলি’। প্রায় ১৩০ পৃষ্ঠার এ প্রকাশনায় বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার লেখক-কবিদের লেখা স্থান পেয়েছে। সংগঠনটির ৩২ বছরের ইতিহাস, কমিউনিটির অর্জন, সাহিত্য, কবিতা, গল্প, স্মৃতিচারণ এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল ভাবনা এতে তুলে ধরা হয়েছে।
ম্যাগাজিনটির সম্পাদনা পরিষদের সদস্য তুষার রায় বলেন, এবারের ‘অঞ্জলি’ বৈচিত্র্যময় লেখা ও নতুন প্রজন্মের অনুভূতি-উপলব্ধিনির্ভর রচনার কারণে বিশেষ হয়ে উঠবে। ভিন্ন সংস্কৃতির পরিবেশে বেড়ে উঠেও তরুণ প্রজন্মের লেখায় বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিপিএর সভাপতি দিলীপ দত্ত বলেন, দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে সংগঠনটি সিডনিতে ধর্মীয় বিশ্বাস, বাঙালি সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে কাজ করছে। এবারের আয়োজনে সাবেক নেতৃত্বকে সম্মান জানানো, বর্তমান অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি গড়ার প্রত্যয় রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি প্রবাসে বাঙালির মিলন, ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও উদযাপন।
বিপিএর সাধারণ সম্পাদক দিবাকর সমদ্দার বলেন, দুর্গাপূজার প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। সংগঠনের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন উপকমিটি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। মহালয়ার সফল আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাবেক নেতাদের সম্মাননা, বিপিএ অ্যাওয়ার্ড এবং ‘অঞ্জলি’ প্রকাশের উদ্যোগ এবারের উৎসবকে বিশেষ তাৎপর্য দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, আয়োজকদের লক্ষ্য প্রতিটি পরিবার যেন আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে উৎসবে অংশ নিতে পারে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের দুর্গাপূজা প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য আরো সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ আয়োজন।
logo-1-1740906910.png)