প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, সবুজ পাহাড়ি উপত্যকা ও জলপ্রপাতের কলতানে মুখর মনোরম পরিবেশে ইতালিস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতালির মধ্যাঞ্চলীয় উম্বরিয়া অঞ্চলের তেরনি (Terni) এলাকার বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র লেক পাইদিলুকোতে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ ও চমৎকার আবহাওয়ায় প্রবাসী চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর এ মিলনমেলা পরিণত হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের উৎসবে। কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা ভুলে নারী, পুরুষ ও শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
আয়োজকরা জানান, লেক পিয়েদিলুকো ইতালির অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। ঐতিহাসিক এই এলাকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে প্রাচীন রোমানদের নির্মিত মানবসৃষ্ট জলপ্রপাত, যা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বনভোজন বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান শাকিল আহমেদ। এ সময় সংগঠনের সভাপতি মো. শাহীন, প্রধান উপদেষ্টা জসিম মন্ডল, সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মাহমুদ , সহ সভাপতি রায়হান বিশ্বাস,রবিউল ইসলাম, আখতারুল ইসলাম , সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিমুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম মিজান সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া উপদেষ্টা উপদেষ্টা শরিফ মোল্লা, তাজেমুল হক, খালেদা বেগম সহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করেন।
এবারের বনভোজনে নবীন ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। আয়োজনকে সফল ও আনন্দমুখর করে তুলতে ‘ইয়ং জেনারেশন’-এর সদস্যরা(কেতাবুল ইসারুল,সামিরুল,রাসেল সহ আরো অনেকে নিরলসভাবে কাজ করেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি সুন্দর সংযোগ তৈরি হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল প্রবাসীদের প্রাণবন্ত আড্ডা, ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন, বিভিন্ন বিনোদনমূলক খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরুষদের জন্য হাঁড়ি ভাঙা এবং নারীদের জন্য বালিশ খেলাসহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন উপস্থিতরা। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণেও ছিল বাড়তি আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের ফাঁকে এমন একটি মিলনমেলায় অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ইতালিতে বসবাসরত চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীরা। তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করে না, বরং প্রবাসে বসবাসরত জেলার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়। পরে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
logo-1-1740906910.png)
