বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের সি. যুগ্ম সম্পাদক হেব্জু মিয়ার ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫
প্রবল ইচ্ছা আর অটুট প্রতিজ্ঞা থাকলে যে কোনো বয়সেই নতুন করে শুরু করা যায়, ছোঁয়া যায় স্বপ্নের আকাশ। এই চিরন্তন সত্যকে আবারো বিশ্ব দরবারে প্রমাণ করলেন কুয়েত প্রবাসী মোহাম্মদ হেব্জু মিয়া।
গত ১৫ বছর ধরে বিদেশের মাটিতে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি আর প্রতিকূল পরিবেশের সাথে লড়াই করে কাটানো এই মানুষটি আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার বাতিঘর। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হেব্জু মিয়া একাধারে একজন সফল ব্যবসায়ী, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং যমুনা টিভির কুয়েত প্রতিনিধি হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মজীবনের এই পাহাড়সম ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে তিনি সম্প্রতি বিআইএমএস (BIMS) কলেজ থেকে অত্যন্ত সফলতার সাথে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (BBA) সম্পন্ন করেছেন।
গত ৯ জানুয়ারি কুয়েতের ক্রাউন প্লাজা হোটেলে এক জমকালো সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে করোনা মহামারির সেই থমকে যাওয়া সময়ে যখন পুরো পৃথিবী ঘরবন্দি, তখনই তিনি এক অসম সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে নিজের গ্র্যাজুয়েশন শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ চার বছরের এই একাডেমিক যুদ্ধে ব্যবসায়িক মিটিং আর সংবাদের সন্ধানে ছুটে চলার মাঝেই তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন পাঠ্যবইয়ের পাতায়।
১৫ বছর প্রবাস জীবনের পর এই বয়সে উচ্চশিক্ষার প্রেরণা পেলেন কোথা থেকে? সমাবর্তন-পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকরা তাকে এই প্রশ্ন করলে জবাবে হেব্জু মিয়া বলেন, আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। প্রবাসে আমরা কেবল অর্থ উপার্জনে নিমগ্ন থাকি, কিন্তু জ্ঞান অর্জনের তৃষ্ণা আমার ভেতর সব সময় ছিল। আমি চেয়েছি নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে এবং অন্য প্রবাসীদের দেখাতে যে, ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব।"
কাজের প্রবল চাপের মাঝে পড়াশোনার সময় কীভাবে বের করতেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "ব্যবসা এবং সাংবাদিকতা দুটিই খুব চ্যালেঞ্জিং। অনেক সময় যান্ত্রিক জীবনের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়তাম, কিন্তু গভীর রাতে বা কাজের ফাঁকে যখনই সময় পেতাম, অনলাইনে ক্লাসে যোগ দিতাম। এই গ্র্যাজুয়েশন আমার কাছে কেবল একটি সনদ নয়, বরং চার বছরের ত্যাগ ও পরিশ্রমের এক অনন্য স্বীকৃতি।
"আগামীতে যারা প্রবাসে থেকেও পড়াশোনা করতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী? এমন প্রশ্নে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "মনোবল আর সততা থাকলে পৃথিবী ছোট হয়ে আসে। ডিজিটাল যুগে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়, তাই সময় নষ্ট না করে সুযোগকে কাজে লাগানো উচিত।" কুয়েতের উত্তপ্ত মরুভূমির বুকে সাংবাদিকতার কলম ধরা আর ব্যবসার হাল ধরার পাশাপাশি শিক্ষার এই অনন্য শিখরে পৌঁছানো হেব্জু মিয়ার এই সাফল্য আজ অন্য প্রবাসীদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তার এই দীর্ঘ অপেক্ষার সফল সমাপ্তি প্রমাণ করে, মানুষের মনোবল আর পরিশ্রমই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে।
logo-1-1740906910.png)